খাল যেন খোলা মাঠ, বৃষ্টি হলেই জলজট

আবর্জনায় ঠাসা নগরের অধিকাংশ খাল। তাই একপশলা বৃষ্টিতেই দেখা দিচ্ছে জলজট। মুহূর্তেই সড়ক ডুবে যায় হাঁটুপানিতে, খাল হয়ে যায় খোলা মাঠ।

সরেজমিন দেখা যায়, চকবাজার, পূর্ব ও দক্ষিণ বাকলিয়া, চাক্তাই-রাজাখালী, চান্দগাঁও, শুলকবহর, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, সিরাজউদ্দৌলা রোড, জামালখান, প্রবর্তকসহ নগরের বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য খাল আবর্জনায় ভর্তি। এসব খালে রয়েছে প্লাস্টিক দ্রব্য, পলিথিনসহ নানা অপচনশীল দ্রব্য। আবার কোনো কোনো খালে জন্মেছে বড় বড় ঘাসও! এসব কারণে ব্যাহত হচ্ছে পানির স্বাভাবিক চলাচল। ফলে একপশলা বৃষ্টিতেই দেখা দিচ্ছে জলজট, নগর ডুবছে হাঁটুপানিতে।

এদিকে নগরের এমন অনেক খাল রয়েছে যেগুলো প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা জমে ভরাট হয়ে গেছে। এসব খালের উপর তৈরি হয়েছে শক্ত আবরণ। ছোট ছেলে-মেয়েরা অনায়াসেই এখানে হাঁটাচলা করছে!

চাক্তাই রাজখালী খালে ময়লা জমতে জমতে এমন অবস্থা ছোট ছেলে-মেয়েরা এখন সেখানে হাঁটতেও পারবে! ছবি: বাচ্চু বড়ুয়া

জলজটে নাকাল কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা জানান, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় খালের পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় পানি উঠছে। আবার বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পরও পানি নামতে সময় লাগছে।

শুধু সড়ক নয়, বৃষ্টিতে সড়কের আশপাশে থাকা বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে ঢুকছে পানি। এতে অনেকেই আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার খালে জমে থাকা আবর্জনার কারণে এলাকায় বাড়ছে মশা-মাছি।

এদিকে ১৪ মে ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতেই নগর ডুবে যায় হাঁটুপানিতে। চকবাজার, বাকলিয়া, বাদুরতলা দু’নম্বর গেট, প্রবর্তক, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, খাতুনগঞ্জ এলাকায় দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। এসব এলাকার কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমরপানি। জলজটে আটকা পড়ে অসংখ্য অটোরিকশা ও কার।

চকবাজার আধুনিক চকসুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. আকাশ আলোকিত চট্টগ্রাম বলেন, শুক্রবারের একপশলা বৃষ্টিতেই মার্কেটে পানি ঢুকে গেছে। এতে নিচতলায় দোকান থাকা ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে আসছে বর্ষায় এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

এদিকে শুক্রবারের একপশলা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও সমালোচনার ঝড় উঠে। ওইদিন দুপুর সাড়ে ৩টায় সৈকত টুটুল নামে এক যুবক জলজটের একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক পেইজে আপলোড করেন। ব্যঙ্গ করে যার শিরোনাম তিনি দিয়েছেন- ‘ডিসি রোডবাসীর ঈদ আনন্দ’।

এক পশলা বৃষ্টিতেই দেখা দেয় এমন জলজট। ছবিটি দুই নম্বর গেট এলাকা থেকে তোলা।

নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ চললেও এর যথার্থ সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।

এ বিষয়ে চসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, তিন ফুটের (১ মিটার) উপরে কোনো নালা পরিষ্কারের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের নয়। এটি চউকের দায়িত্ব। এরপরও জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক সেনাাবাহিনীর লে. কর্নেল আলী শাহ বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কালভার্ট, রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণসহ খালের বিভিন্ন কাজ চলছে। এ কারণে কিছু এলাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ইতোমধ্যে খাল থেকে ময়লা-আবর্জনার পরিষ্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হলে আশাকরি সুফল মিলবে। এজন্য নগরবাসীকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’

আলোকিত চট্টগ্রাম

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm