কর্ণফুলীর চরেই ৪৪ সরকারি অফিস হচ্ছে ১১০ একর জায়গার ওপর

নদীর তীরে জেগে ওঠা চরে থাকবে ৪৪টি সরকারি অফিস। দেশের ইতিহাসে এটিই হবে প্রথম সমন্বিত সরকারি অফিস কমপ্লেক্স! চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরেই হতে যাচে্‌ছ এই কমপ্লেক্স। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিনি সেক্রেটারিয়েট ফর চট্টগ্রাম’। যেখানে এক স্থানেই পাওয়া যাবে সহস্র সেবা।

নগরের চান্দগাঁও ওয়ার্ডের বন্দর মৌজার ১১০ একর জায়গাজুড়ে বিশাল এই কমপ্লেক্সে গড়ে তোলা হবে। যেখানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও সার্কিট হাউজসহ বিভিন্ন সরকারি অফিস থাকবে। আগামী তিন-চার বছরের মধ্যেই সরকারি সমন্বিত এ অফিস ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

জানা গেছে, প্রকল্পটি নিয়ে এ মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে প্রকল্পের নকশা, ডিপিপিসহ আনুষঙ্গিক সব বিষয় আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।

৭ কিলোমিটার দূরেই শত চমক!

চট্টগ্রাম শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে সাত কিলোমিটার দূরে গড়ে উঠছে  ‘মিনি সেক্রেটারিয়েট ফর চট্টগ্রাম’। এখানে ৪৪টি সরকারি দপ্তর ছাড়াও থাকবে সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, সরকারি ট্রেনিং সেন্টার, ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, শপিং মল, মাল্টি স্টোরেড কার পার্কিং, সরকারি স্কুল-কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট, পরিবহন পুল, পেট্রোল পাম্প, স্মৃতিসৌধ, নভোথিয়েটারসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

আরও পড়ুন: দূর হচ্ছে কর্ণফুলীর ‘অগ্নিভয়’

মূলত মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ার আদলেই এটি গড়ে তোলা হবে। যেখানে এক ছাতার নিচে সব ধরনের সরকারি সেবা পাবেন চট্টগ্রামবাসী।

রক্ষা পাবে পরীর পাহাড়

Thai Food

ঐতিহাসিক পরীর পাহাড় আইনজীবী সমিতির নতুন দুটি ভবন নির্মাণ নিয়ে দুমাস আগে জেলা প্রশাসন ও আইনজীবী সমিতির দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। তবে ইতোমধ্যে পরীর পাহাড়ের ১৩০ বছরের পুরনো দুতালা আদালত ভবনটিকে হেরিটেজ ঘোষণার প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। অপরদিকে পরীর পাহাড়কে প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা হিসেবে সংরক্ষণের প্রস্তাব বিবেচনা চলছে বলে জানিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এর আগে পরীর পাহাড়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণ না করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে তাতে সম্মদি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন থেকেই পরীর পাহাড়ে থাকা চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সব সরকারি অফিস অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

হামিদ চরেই নতুন ঠিকানা

নগরের কালুরঘাট সেতুর এক কিলোমিটার পশ্চিমে বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির পাশের ৭৩ দশমিক ৪২ একর জমিতে ইতোমধ্যেই চিহ্নিতকরণের কাজ শেষ করেছে জেলা প্রশাসন। কর্ণফুলীর চরে মনে প্রশান্তি এনে দেওয়া প্রাকৃতিক পরিবেশেই বাস্তবায়িত হবে প্রকল্পটি।

আরও পড়ুন: বিশ্ব দেখবে বাংলাদেশ—সমুদ্রদর্শন আর ঢেউয়ের গর্জনে চলবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ

জানা যায়, প্রায় এক শতাব্দী আগে হামিদ চর নামের চরটি দেখা যায়। কয়েক বছর আগেও সরকারি এই খাস জমিতে ধান ও সবজি চাষ করতেন স্থানীয়রা। বর্তমানে চরের ৭৩ দশমিক ৪২ একর জমি দখলে রয়েছে জেলা প্রশাসনের। এর বাইরে আশপাশের জমি নিয়ে মামলা রয়েছে। এ সমস্যার সমাধান হলে প্রকল্পের মোট জমির পরিমাণ হবে ১১০ একর।

জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৩৩টি সরকারি অফিস তাদের নিজস্ব ভবন না থাকার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছে। আরও ১১টি অফিসের নিজস্ব ভবন থাকলেও সেগুলো ব্যবহারের উপযুক্ত নয়। সবমিলিয়ে ৪৪টি সরকারি অফিসকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm