ইভ টিজিং—ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে রক্তাক্ত ৪, মোটরসাইকেলে আগুন

মিরসরাইয়ে ইভ টিজিংকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুগ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৪ জন আহত হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দুটি মোটরসাইকেল।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরসরাই পৌরসভা মাকের্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, হামলায় আহত নেতাকর্মীদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর দুটি মোটরসাইকেলসহ ইমতিয়াজ ও সাইমুন নামের দুজনকে আটক করেছে মিরসরাই থানা পুলিশ।

আরও পড়ুন: ‘ইভটিজিং নয়’—পরকীয়ার জেরেই তাণ্ডব চালায় কায়সার গ্রুপ, ছুরিতেই নারী রক্তাক্ত

প্রত্যক্ষদর্শীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকালে কলেজ সড়কে এক শিক্ষার্থীকে ইভ টিজিংয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে ধাওয়া দেয়। এরপর আজ (রোববার) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভা মার্কেটের সামনে কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহনেওয়াজ নিশাদ ও তাঁর সহপাঠীদের ওপর হামলা করা হয়। হামলায় নিশাদ, রাজিব, সাকিব ও সজিব নামে চার ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হন।

এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পৌর বাজারের ফুটওভার ব্রিজের নিচে নিশাদের গ্রুপের কর্মীরা হামলা চালায় পৌরসভা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর। এসময় উপজেলা সড়কে হাসান নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করার সময় তার মা সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে পুনরায় নিশাদের কর্মীরা হামলা চালায় ছাত্রলীগ কর্মী রিয়াদের বাড়িতে। এসময় হামলকারীরা ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। রিয়াদকে না পেয়ে তাঁর এবং বড় ভাইয়ের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

হামলার ঘটনায় আহত ছাত্রলীগ নেতা শাহনেওয়াজ নিশাদ অভিযোগ করে বলেন, শনিবার সকালে আমার কলেজের এক শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়তে এলে কয়েকজন বখাটে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইভ টিজিং করে। এসময় আমরা বখাটেদের ধাওয়া করি। এ ঘটনার জেরে রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর ইকবালের অনুসারীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর ইকবাল নাহিদ বলেন, আমি পারিবারিক কাজে নারায়ণগঞ্জে আছি। এ ঘটনার সঙ্গে অহেতুক আমাকে জড়ানো হচ্ছে। এছাড়া মোবাইল ফোনে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘ইভটিজিং’—রাতের আঁধারে লম্বা নাছির গ্রুপের তাণ্ডব, রক্তাক্ত ৩

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মিরসরাই বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আবছার বলেন, কলেজ এখন বন্ধ। শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়তে আসতে পারে। তবে ক্যাম্পাসে মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি, বাইরে ঘটতে পারে। এ বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি।

যোগাযোগ করা হলে মিরসরাই থানার সেকেন্ড অফিসার রাজিব পোদ্দার আলোকিত চট্টগ্রামকে বলের, ছাত্রলীগের দুগ্রুপে মারামারির ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজিজ/আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm