ইউএনও রুহুল আমিনের স্বাক্ষর জাল, সেই নাজিয়া—হাফিজুর বদলি

হাটহাজারীর সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিনের স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় বদলি করা হয়েছে প্রকৌশল দপ্তরের অফিস সহকারী নাজিয়া বেগমকে। তাঁকে কর্ণফুলী উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে বদলি করা হয়েছে।

একইসঙ্গে নাজিয়ার স্বামী কার্যসহকারী হাফিজুর রহমানকেও বদলি করা হয়েছে। তাঁকে বদলি করা হয়েছে বোয়ালখালী উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে।

জানা যায়, হাটহাজারী উপজেলার রাজস্ব উদ্বৃত্ত (উপজেলা উন্নয়ন) ২০২০-২০২১ অর্থবছরে গড়দুয়ারা ইউপি এলাকায় ৪ লাখ ৯ হাজার ৪৯৪ টাকা বরাদ্দকৃত প্রকল্পে ‘মেসার্স আব্দুল্লাহ ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ফাইলে সাবেক ইউএনও রুহুল আমিনের স্বাক্ষর জাল করেন নাজিয়া। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রী দে’কে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তবে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আগেই বদলি হতে হলো সেই নাজিয়া বেগম ও তাঁর স্বামী হাফিজুর রহমানকে।

হাটহাজারী উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রী দে বদলির সত্যতা নিশ্চিত করে আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, সরকারি চাকরিতে নির্দিষ্ট সময়ে সবাইকে বদলি করা হয়। সে হিসেবে নাজিয়া বেগম ও তার স্বামীকে বদলি করা হয়েছে। জনবল সংকটে তাদের অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এখানে অন্য কোনো কারণে নেই।

আরও পড়ুন : ইউএনও রুহুল আমিনের স্বাক্ষর জাল, এক নাজিয়ার হাতেই জিম্মি প্রকৌশল দপ্তর

Thai Food

এর আগে দীর্ঘ সময় এক জায়গায় কর্মরত থাকা, দাপ্তরিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে (এলজিইডি) কয়েকবার চিঠি দেন সাবেক ইউএনও রুহুল আমিন। কিন্তু এরপরও তাঁরা বহালতবিয়তে রয়ে যান।

ওই চিঠিতে সাবেক ইউএনও রুহুল আমিন উল্লেখ করেন, হাটহাজারী প্রকৌশল দপ্তরে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে কর্মরত থাকায় তারা উপজেলার উন্নয়ন কাজের বিভিন্ন বিল প্রদানের ক্ষেত্রে ঠিকাদার ও অন্যান্য বিল গ্রহণকারীর নিকট হতে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় করতেন। ইতোমধ্যে তাদেরকে মৌখিকভাবে একাধিকবার সতর্ক করার পরেও তাদের আচরণে পরিবর্তন ঘটেনি। স্বামী-স্ত্রী একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মরত থাকায় তাদের মধ্যে প্রশাসনিক আদেশ অমান্য ও অনাগ্রহ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নাজিয়া ও হাফিজুর তাদের কারসাজিতে প্রকৌশল দপ্তরের কাজ চালাচ্ছে।

কিন্তু অভিযোগ করার পরও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সর্বশেষ ২৯ সেপ্টেম্বর একটি প্রতিষ্ঠানের ফাইলে সাবেক ইউএনও রুহুল আমিনের স্বাক্ষর জাল করেন নাজিয়া। এ ঘটনা তদন্তে ৩০ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২ অক্টোবর আলোকিত চট্টগ্রামে ‘ইউএনও রুহুল আমিনের স্বাক্ষর জাল‘—এক নাজিয়ার হাতেই  জিম্মি প্রকৌশল দপ্তর’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সিএম/ডিসি
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm