আওয়ামী লীগ নেতাদের রক্ত ঝরিয়ে ত্রাস—বিনা ভোটে জিততে উন্মত্ত সাতকানিয়ার লিয়াকত

সেনাবাহিনী থেকে চাকরিটা চলে গেছে অনেক আগে। রয়েছে মাদককারবারিদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ। রাতারাতি ধনী বনে যাওয়া সেই ব্যক্তিই পেয়েছেন সাতকানিয়ার নলুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিট! যদিও তাঁর আদর্শ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘প্রশ্ন’ আছে খোদ আওয়ামী মহলে।

আলোচিত এ ব্যক্তির নাম লিয়াকত আলী। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েই বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে তিনি উন্মত্ত হয়ে উঠেছেন। এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ঝরাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতাদের রক্ত!

রোববার (২৩ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দের দিনেই নলুয়া ইউনিয়নে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উপজেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমানসহ অন্তত ৬ জন আহত হন। রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন : ‘রাতের বৈঠক’—নগর আওয়ামী লীগের ৬ নেতা বহদ্দারহাটের বাসায়

হামলায় আহত হন- নলুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জুলফিকার আলি চৌধুরী ভুট্টো, মো. এমরান, ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন, শহিদুল ইসলাম, আবুল হোসেন এবং চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান। আহতদের দোহাজারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

অভিযোগ উঠেছে, নলুয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে এই হামলা চালিয়েছে তাঁর লোকজন। লিয়াকত একজন চিহ্নিত মাদককারবারি ও জামায়াত-শিবিরের পৃষ্ঠপোষক। নির্বাচনে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হতে মরিয়া হয়ে তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছেন।

পদুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হয়েও নির্বাচনে অংশ নিতে জালিয়াতি করে নলুয়া ইউনিয়নের জাতীয় সনদও তৈরি করেছেন লিয়াকত আলী। নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী পরিচয় দিয়ে এলাকায় বেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যাওয়া এই ব্যক্তি।

হামলার বিষয়ে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, রোববার দুপুরে প্রতীক বরাদ্দ উপলক্ষে উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে যাওয়ার পরপরই আমার ওপর হামলা চালায় লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে আবু বক্কর রিমন, ইয়াবা মামলার আসামি শাহাদাত হোসেন লিটন এবং মিজান প্রকাশ পিচ্চি মিজান। হামলায় আমার সঙ্গে থাকা নলুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জুলফিকার আলি চৌধুরী ভুট্টো, এমরান, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজান শোয়েব ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন আহত হন। পরে তাদের দোহাজারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) মধ্যরাতে মুখোশধারীরা অস্ত্র নিয়ে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আমার শ্বশুরবাড়িতে হামলা চালায়। সেখানে হুমকি দেওয়া হয় আমি যেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। এ ঘটনার পর উপজেলা নির্বাচন অফিসের রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন আমার শ্যালক মো. হারুন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নলুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. লিয়াকত আলী। তিনি বলেন, রোববার দুপুরে ২ নম্বর ওয়ার্ডের এক মেম্বার প্রার্থীর সঙ্গে আলিঙ্গন করার সময় উল্টো আমার ওপর হামলা চালায় মিজানুর রহমানের লোকজন। হামলায় আমার পক্ষে আসা তিন থেকে চারজন আহত হন।

মাদক বাণিজ্যের ব্যাপারে তিনি বলেন, মাদক নিয়ে কোনো অভিযোগ বা মামলা আমার বিরুদ্ধে নেই।

অপরদিকে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়ার থানার ওসি মো. আব্দুল জলিল আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সাতকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ। নলুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের মনোয়ন পাওয়া লিয়াকত আলী, বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রাথী তসলিমা আবছার।

আরও পড়ুন : ছাত্রদল নেতা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা, চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন পটিয়ায়

এদিকে সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত লিয়াকত আলীর দেশি-বিদেশি মাদককারবারির সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে— এমন অভিযোগও জমা পড়েছে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বরাবর।

যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ২০১৯ সালের সাতকানিয়া এলাকায় সফরে আসেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। ওই সময় লিয়াকত অভিনন্দন জানিয়ে এলাকায় পোস্টারিং করে। সেখানে আমি সর্বপ্রথম লিয়াকতকে চিনি। তখন পোস্টার দেখে আমি তাকে ফোনে জিজ্ঞেস করি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ছবির সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও নেত্রীর ছবি নেই কেন? আমার এ প্রশ্নের উত্তরে লিয়াকত বলেছিলেন, আমি দল করি না। তাই কারো ছবি দিইনি। তাহলে দুবছর পর এসে নিজের সব অপকর্ম গোপন করে দলের হাইকমান্ড থেকে মনোনয়ন ভাগিয়ে নিল কীভাবে?

তিনি আরও বলেন, লিয়াকত সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া সৈনিক। তার বাবারও তেমন কোনো সম্পত্তি ছিল না। একজন বরখাস্ত সৈনিক কীভাবে অল্প সময়ে এত টাকার মালিক হলেন সেটাও ভাববার বিষয়।

আলোকিত চট্টগ্রাম
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm