১৫২ কেজি রেণু—হালদায় আবার ডিম ছাড়বে মা মাছ!

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার পর এখন চলছে রেণু বিক্রি। প্রথম দফায় ৬ হাজার কেজি ডিম থেকে রেণু পাওয়া গেছে ১৫২ কেজি। এই রেণু বিক্রি করে প্রায় ২ কোটি টাকা পাওয়া যাবে— বলছেন ডিম সংগ্রহকারীরা।

ডিম সংগ্রহকারীরা আরও বলছেন— আগামী অমাবস্যা তিথিতে হালদায় আবারও ডিম ছাড়বে মা মাছ। ডিম সংগ্রহকারীদের এ আশায় নিরাশ করেননি হালদা বিশেষজ্ঞও।

গত ২৯ ও ৩০ এপিল মা মাছ ডিম ছাড়লে তা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটান ডিম সংগ্রহকারী। দুদিনে প্রায় ৬ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়। এরপর হ্যাচারি ও নদীর তীরে খনন করা মাটি কুয়ায় রেণু উৎপাদন করেন ডিম সংগ্রহকারীরা।

এদিকে মঙ্গলবার (৫ মে) রাউজানের গহিরা মোবারক খীল, পশ্চিম বিনাজুরী আইডিএফের হ্যাচারি দেখা গেছে রেণু বিক্রির চিত্র। অভিন্ন চিত্র ছিল হাটহাজারীর মাছুয়া ঘোনা, শাহ মাদারী ও মদুনাঘাট হ্যাচারিতেও।

নদীর তীরে খনন করা মাটির কুয়ার ফুটানো রেণু বিক্রি করছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। প্রতি কেজি রেণুর দাম ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৎস্য হ্যাচারি ও মৎস্য প্রকল্পের মালিক এবং মাছ চাষিদের দেখা গেছে রেণু কিনতে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হালদা নদীর মা মাছের ডিম থেকে ফুটানো রেণুতে রুই, কাতাল, মৃগেল ও কালিবাউশ জাতের মাছ রয়েছে। প্রতিবছর হালদা নদীর মা মাছের ডিম থেকে ফুটানো রেণু পুকুর জলাশয়, হ্যাচারি, দিঘি ও মৎস্য প্রকল্পে ফেলে কোটি কোটি টাকার মাছ উৎপাদন করা হয়।

যোগাযোগ করা হলে রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, হালদা থেকে সংগৃহীত ৬ হাজার কেজি ডিম থেকে ১৫২ কেজি রেণু পাওয়া গেছে। সেই রেণু এখন বিক্রি করছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। রেণু কিনতে হ্যাচারিগুলোতে আসছেন মাছ চাষি ও হ্যাচারি মালিকেরা।

মাছুয়া ঘোনা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী শফিউল আলম বলেন, মাছুয়া ঘোনা হ্যাচারি থেকে ৩ কেজি রেণু বিক্রি করা হয়েছে। প্রতি কেজি রেণুর দাম দেড় লাখ টাকা।

এদিকে আগামী অমাবস্যা তিথিতে আবারও হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়বে বলে আশা করছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। বিষয়টির ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম কন্টেনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হালদা গবেষক ড. শফিকুল ইসলাম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, কয়েকদিন ধরে কালবৈশাখীর সময়ে ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাত হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের স্রোতের পানি প্রবাহিত হওয়ায় পূর্ণিমার তিথিতে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ে। আগামী অমবস্যা তিথিতে প্রবল বর্ষণ ও বজ্রপাত হলে ফের হালদা নদীতে ডিম ছাড়বে মা মাছ।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm