তীব্র তাপদাহে কষ্টে আছে বাঘ ভালুক হরিণ

চকরিয়া সাফারি পার্ক

দেশজুড়ে চলছে তীব্র তাপদাহ। অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। অসহনীয় এই তাপদাহের প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া সাফারি পার্কের পশু-পাখিদের মধ্যেও। তীব্র তাপদাহে স্বস্তি হারিয়ে গেছে এখানকার প্রাণীদের। আবার প্রচণ্ড রোদ ও ভ্যাপস গরমে পার্কে দর্শনার্থী সমাগমও নেই বললেই চলে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস বলছে, গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজারে তাপমাত্রা ছিল ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েকদিন আরও বাড়তে পারে তাপমাত্রা।

পার্ক সূত্রে জানা গেছে, তীব্র তাপদাহের কারণে পশু-পাখিরা যাতে অসুস্থ হয়ে না পড়ে সেজন্য নেওয়া হয়েছে বাড়তি সর্তকতা। পশুদের ভিটামিন সি এবং খাবার স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার করে দেওয়া হচ্ছে সিংহ-বাঘ ও হরিণের বেষ্টনীতে বসানো চৌবাচ্চার পানি । প্রতিদিনই এসব চৌবাচ্চায় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভিটামিন সি ও খাবার স্যালাইন পানিতে মিশিয়ে বেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়েছে। কিছুক্ষণ পরপর পশু-পাখিদের স্যালাইনের পানি খাওয়ানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, পশুদের মধ্যে বাঘ, ভালুক আর হরিণ অতি তাপমাত্র সহ্য করতে পারে না। অন্যান্য প্রাণীগুলোর তাপ সহ্য ক্ষমতা মোটামুটি ভালো।

এ অবস্থায় পার্ক কর্তৃপক্ষ বাঘ, ভালুক আর হরিণের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখার ব্যবস্থা করেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পার্কে থাকা জেব্রা, ওয়াইল্ডবিস্ট, কুমির, হাতি, গন্ডারসহ বিভিন্ন প্রাণী পার্কের লেকের পানি পান করছে। গরম অনুভূত হলেই তারা নেমে পড়ছে লেকে।

এদিকে হরিণের বেষ্টনিতে চৌবাচ্চায় রাখা আছে পানি। একটু পরপর এক একটি হরিণকে পানি পান করছে। পানি পানের অভিন্ন চিত্র দেখা গেল ভালুকের বেষ্টনীতেও। তাদের বেষ্টনীতেও একই রকমভাবে পানি রাখা হয়েছে। তাদের সবজি জাতীয় খাবার দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাঘ-সিংহদের প্রতিদিন এক বেলা করে খাবার দেওয়া হচ্ছে। তীব্র তাপদাহতে যাতে পশু-পাখিরা অসুস্থ না হয়, সেজন্য সর্তকতামুলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাণীদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার জন্য স্ব-স্ব বেষ্টনীর কেয়ারটেকারদের নির্দেশ দিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।

যোগাযোগ করা হলে চকরিয়া সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মঞ্জরুল আলম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপদাহের কারণে পার্কে থাকা পশু-পাখিরা একটু অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে বাঘ, ভালুক ও হরিণের একটু কষ্ট হচ্ছে। গরম অনুভূত হলেই পার্কের প্রাণীরা লেকের পানিতে নেমে শরীর ভিজিয়ে নিচ্ছে, বসে পড়ছে গাছের ছায়ায়।

তিনি আরও বলেন, পার্কে থাকা বাঘ, সিংহ, ভালুক ও হরিণের বেষ্টনীর চৌবাচ্চাগুলোর পানি দিনে দুবার করে পরিষ্কার করা হচ্ছে। এছাড়া বেষ্টনীর উপর টিন দেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ঠিক সময়ে পানির জন্য কষ্ট পেতে হচ্ছে।

আলোকিত চট্টগ্রামত প্রতিবেদক

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm