যাত্রীর প্রচণ্ড চাপ থাকলেও চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রুটে বাড়ছে না ট্রেন

টাকা কম, দুর্ভোগ কম, সময়ও লাগে কম; সেই সঙ্গে আছে চাহিদাও। এতকিছুর পরও চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেলপথে বাড়ানো হচ্ছে না ট্রেন। অথচ এই পথে যাত্রীর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। সময় ও টাকা বাঁচাতে বেশিরভাগ যাত্রীরই প্রথম পছন্দ ট্রেন। কিন্তু ইচ্ছে থাকারও পর তারা যেতে পারেন না ট্রেনে।

উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজান উপজেলার মানুষের যাত্রা সহজ করতে নির্মাণ করা হয়েছিল চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেললাইন। চট্টগ্রাম নগরের রেলস্টেশন থেকে স্বল্প টাকা ভাড়ায় যাওয়া-আসা করা যায় এই পথে। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষকরাও প্রতিদিন ব্যবহার করেন এই রেলপথ। দিন দিন এই পথে বাড়ছে যাত্রীর চাপ। কিন্তু ট্রেনের সংখ্যা রয়ে গেছে আগের অবস্থানেই। মাত্র দুটি লোকাল ট্রেন ছাড়া এই পথে আর কোনো ট্রেনই নেই! তাই বাধ্য হয়ে অসংখ্য যাত্রীকে বেছে নিতে হয় দুর্ভোগের সড়কপথ।

এর আগে নাজিরহাট রেললাইনে ডেমু ট্রেন চালু করা হলেও করোনার সময় সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই যে বন্ধ হলো আর চালু হলো না ডেমু ট্রেন।

বর্তমানে নাজিরহাট রেললাইনে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটায় একটি লোকাল ট্রেন ছাড়ে, সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সেটি নাজিরহাট রেলস্টেশনে পৌঁছে। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে আরো একটি লোকাল ট্রেন চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে থেকে ছাড়ে, সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে সেটি নাজিরহাট রেলস্টেশনে পৌঁছে।

অপরদিকে প্রতিদিন সকাল ৬টায় নাজিরহাট রেলস্টেশনে থেকে একটি লোকাল ট্রেন ছাড়ে, সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পৌঁছে। আরও একটি লোকাল ট্রেন ১০টা ৪০ মিনিটে নাজিরহাট রেলস্টেশন থেকে ছাড়ে, দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পৌঁছে।

লোকাল ট্রেনগুলো নাজিরহাট রেললাইন দিয়ে চলাচলের সময়ে কাটিরহাট, সরকারহাট, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, নন্দীরহাট, চৌধুরীহাট, চট্টগ্রাম সেনানিবাস ও ষোলশহর স্টেশনে থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করে। নাজিরহাট থেকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন পর্যন্ত যেতে প্রতিজন যাত্রীর ভাড়া মাত্র ১১ টাকা।

অথচ সড়কপথে যদি নাজিরহাট থেকে চট্টগ্রাম নগরে আসতে হয় তাহলে ভাড়া গুণতে হবে কয়েকগুণ বেশি টাকা। এই পথে সরাসরি কোনো বাস নেই। তাই গাড়িও পাল্টাতে হয় একাধিক। আর সড়কপথে যানজটের কারণে সময়ও লাগে বেশি।

নন্দীরহাটের বাসিন্দা রাজু সাহা। বেসরকারি এই চাকরিজীবীকে প্রতিদিন নন্দীরহাট থেকে চট্টগ্রাম শহরে যাওয়া-আসা করতে হয়। রাজু সাহা আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ভ্রমণে আমার প্রথম পছন্দ ট্রেন। আমাদের মতো স্বল্প বেতনের চাকরিজীবীদের জন্য এটি সাশ্রয়ী। এই যেমন আমি চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে মাত্র ৫ টাকার টিকিট কেটে নন্দীরহাটে চলে যেতে পারি। কিন্তু সড়কপথে যেতে হলে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে বাড়তি সময়ের দুর্ভোগ তো আছেই।

তিনি বলেন, সবসময় চেষ্টা করি ট্রেনে যাওয়া-আসা করতে। কিন্তু আমার মতো যাদের শিফটিং ডিউটি থাকে তাদের পক্ষে সবসময় এটি সম্ভব হয় না। কারণ চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রুটে রয়েছে ট্রেন সংকট।

রাজু সাহা বলেন, চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রুটে প্রচুর যাত্রী রয়েছে। সড়কপথে যানজটের যন্ত্রণা এড়াতে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী আসেন ট্রেনে যেতে। ট্রেনের স্বল্পতার কারণে তাদের অনেককে আবার দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষাও করতে হয়। এই রুটে যদি ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয় তাহলে সেটি যেমন যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করবে, তেমনি সরকারের আয়ও বাড়বে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm