ইটভাটা নিয়ে উত্তপ্ত চকরিয়া—লামা, এমপি প্রার্থী—এনসিপি নেতাও আসামি

ইটভাটা বন্ধের ঘটনায় উত্তপ্ত কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামা উপজেলা। বিকল্প কর্মসংস্থান না করে ইটভাটা বন্ধের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে চকরিয়া ও লামার হাজার হাজার শ্রমিক। তাদের সঙ্গে রয়েছে পাহাড়ি শ্রমিকরাও। এদিকে রোববারের (১৬ নভেম্বর) ঘটনায় মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মামলায় আসামি করা হয়েছে এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী এবি ওয়াহিদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী এরফানুল হককেও।

এদিকে আজ (১৮ নভেম্বর) সকাল থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের বিশেষ টিমের চলমান অভিযান বন্ধ রাখতে ইটভাটার সঙ্গে জড়িত হাজারো পাহাড়ি-বাঙালি শ্রমিক ফাইতং বাজারে অবস্থান নেয়।

জানা গেছে, রোববার চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তর থেকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজুয়ান উল ইসলামের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি ইটভাটা ও পাহাড় কাটাসহ পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কয়েকটি ইটভাটা ভেঙে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করে। এ সময় মালিক-শ্রমিকরা অভিযানিক দলের গাড়ি বহরের সামনে কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে রাস্তায় শুয়ে পড়ে। একপর্যায়ে অভিযানিক দল পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এদিকে লামার ফাইতং ইউনিয়নের ইটভাটায় প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করার খবর পেয়ে তৃতীয় দিনের মতো রাস্তায় নামে মালিক-শ্রমিকসহ স্থানীয় জনতা। ইটভাটা ভাঙা প্রতিরোধ করতে আজ সকাল থেকে ফাইতং বাজারে চলে অবস্থান কর্মসূচি।

অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত জনতা বলেন, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে ইটভাটা ভাঙতে দেওয়া হবে না। প্রশাসনকে তাদের লাশের উপর দিয়ে গিয়ে ইটভাটা ভাঙতে হবে।

ফাইতং ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বলেন, সকাল থেকে কাফনের কাপড়, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ৫-৬ হাজার জনতা ফাইতং বাজারে অবস্থান করছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনকে ইটভাটা ভাঙায় বাঁধা দেওয়ার অভিযোগে লামা থানায় মামলা দায়ের করেছে প্রশাসন। পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন বাদি হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী এবি ওয়াহিদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী এরফানুল হকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০০/৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী এবি ওয়াহিদ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, চকরিয়া ও লামার ইটভাটাগুলোতে মালিকদের পাশাপাশি হাজার হাজার শ্রমিকের রুটি-রুজি জড়িত। এসব মালিক-শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান না করে ইটভাটা ভেঙে দেওয়া অন্যায্য। আমি এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে মামলার শিকার হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে শত মামলা হলেও আমি বিকল্প কর্মসংস্থান না করে ইটভাটা ভাঙতে দিবো না।

যোগাযোগ করা হলে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রেজাউল করিম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের বিশেষ টিমকে বাঁধাদানকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm