চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলীকে হত্যা মামলায় এবং তাঁতী লীগ নেতা মো. আব্দুল মালেক প্রকাশ ‘ঘোড়া মালেককে’ বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে দুজনকে চট্টগ্রাম মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. আলী (৫৬) কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের মৃত মো. ইব্রাহীম সওদাগরের ছেলে। তিনি চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিলেন। বিগত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচন করেন।
গত ১৩ এপ্রিল দুপুরে ইছানগর বিএফডিসি এলাকা থেকে মো. আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে আব্দুল মালেক প্রকাশ ঘোড়া মালেক (৪৬) জুলধা ইউনিয়নের হাজী নাজির উল্লাহর বাড়ির বাসিন্দা। তিনি কর্ণফুলী উপজেলা তাঁতী লীগের আহ্বায়ক এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
আরও পড়ুন : আওয়ামী লীগের আলী চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
গত ১২ এপ্রিল রাতে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর আজ (১৪ এপ্রিল) তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়।
জানা যায়, মো. আলীর বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানার মামলা নং-২২, ফৌজদারি আইনের ধারা ৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩২৬/৩০৭/৩০২/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৮ জুলাই বিকেলে বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে হামলা চালায় মো. আলীসহ তাঁর অনুসারীরা। তারা দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ইট-পাটকেল দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে সায়মান মাহিন (১৬) নামের এক ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এছাড়া আরও দুজন—তানভীর ছিদ্দিকী (১৯) ও হৃদয় চন্দ্র তরুয়া (২৩) নিহত হন এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
অন্যদিকে ঘোড়া মালেকের বিরুদ্ধে করা চান্দগাঁও থানার মামলা নম্বর-১১। মামলায় ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩২৬/৩০৭/১০৮/৩৪ ফৌজদারি আইন এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩(ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী একজন ছাত্র। তিনি ওইদিনের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন চলাকালীন ঘোড়া মালেক ও তাঁর লোকজন অস্ত্রসহ হামলা চালায় এবং বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এ বিষয়ে চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুজনের মামলা দুটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
আলোকিত চট্টগ্রাম
