সয়াবিন তেল নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। দুদিনের মধ্যে চট্টগ্রামের বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কোম্পানির গুদামে চালানো হবে অভিযান। এমনকি জেলে পাঠানোরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ভোজ্যতেল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আমদানিকারক, ডিলার, ট্রেডার্স, ক্যাব, ছাত্রনেতাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটির মতবিনিময় সভায় এ হঁশিয়ারি দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, আমরা আজকেসহ চার দফা বসেছি। চার দফা বসার পরও রমজানের ক্রাইসিসটা থেকেই গেল। এটা আসলে দুঃখজনক। আমি মনে করি, আপনারা যারা ব্যবসায়ী আছেন আপনাদের লিডারশিপ নিয়ে আমাদের মনে এখন শঙ্কা জেগেছে যে আপনারা কোন টাইপের লিডারশিপ দিতে পারছেন। আজকে এখানে কথা শেষ, মিটিং শেষ। এরপর রাষ্ট্র দায়িত্বে নিবে। আমরা কিন্তু বলেছি আমাদের রাষ্ট্রীয় পদ্ধতি আছে। সেটা আপনারাও জানেন। শুধু আপনাদের সঙ্গে আমাদেরে একটা রেসপেক্টের জায়গা আছে এবং এটা ভেরি মাচ হাই। যদি আপনাদের প্রতি রেসপেক্ট না থাকত দুমাস আগে থেকে বসতাম না। এখন কী করা যায়, ভোক্তা কীভাবে তেল পাবে এ ব্যবস্থা করেন।
আরও পড়ুন : সয়াবিন তেল বাসায়-গুদামে আছে, দোকানে নেই
তিনি বলেন, ২৯ রমজান হয়ে গেল তেলের ছড়াছড়ি হলো বাজারে আমার তো কোনো লাভ নেই। আমার যারা নাগরিকরা তারা তো সুবিধা পেল না। আজকে আপনারা বলেন, মেয়র মহোদয় আছে। গতকাল (৩ মার্চ) বড় একটা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এটা এখন জাতীয় সংবাদে পরিণত হয়েছে। এমন কোনো জায়গা নাই ঢাকা শহরের না জানে যে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আমরা ড্রাইভ দিয়েছি। আপনারা আমাদেরকে সমাধান দেন।
তিনি আরও বলেন, দুদিনের ভেতরে যদি চট্টগ্রামে তেলের সাপ্লাই এভেইয়াবল না হয় তাহলে আমরা গুদাম পর্যায়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করবো। আমরা আর কোনো খুচরা বাজারে অভিযান করবো না। আমরা গুদামে অভিযান করবো এবং দৃশ্যমান অভিযান হবে, আপনারা দেখতে পারবেন। শুধু গুদামে অভিযান করে আমরা শেষ করবো না, আমরা কিন্তু জেল দিব। আজকে টি কে গ্রুপ বলেন, সিটি গ্রুপ বলেন, এরকম প্রতিষ্ঠিত গ্রুপের কাউকে যদি আমরা ১০ দিনের জেল দিই আমি মনে করি সেই গ্রুপটা মরে যাওয়ার মতো অবস্থা অপরাধের কারণে। অতএব আপনরা সাবধান হোন এবং আজকেই সিদ্ধান্ত হবে। না হয় কাল থেকে রাষ্ট্র দায়িত্ব নেবে। আমরা অভিযান পরিচালনা করবো ২টার পর থেকে। আমাদের সঙ্গে ছাত্র সমন্বয়করা থাকবে। দেখি কার শক্তি বেশি। রাষ্ট্রের শক্তি বেশি, নাকি ব্যবসায়ীদের শক্তি বেশি, আমরা দেখতে চাই।
এদিকে সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানিকারকরা ১৫৩ টাকা, ট্রেডার্সে ১৫৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ১৬০ টাকা প্রতিলিটার খোলা তেল বিক্রি করবে। যা আজ (৪ মার্চ) থেকে কার্যকর হবে। আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। যেকোনো পর্যায়ে কেউ যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটি।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
এছাড়া ব্যবসায়ী গ্রুপ টিকে ও সিটি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা এবং ভোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ৩ মার্চ বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটে দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে যান সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম


