শারদীয় দুর্গোৎসব—রাউজানের ৮ স্পটে ব্যস্ততা

ঘনিয়ে আসছে শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে রাউজানে প্রতিমা তৈরির কাজে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। নির্ধারিত সময়ে পূজার্থীদের কাছে প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে কারখানাগুলোতে যেন দম ফেলার ফুরসত নেই কারো।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আটটি প্রতিমা তৈরির কারখানা। পৌরসভার ফকিরহাট বাজার, জলিলনগর জগন্নাথ সেবাশ্রম, শরতের দোকান, গহিরা, ডাবুয়া, চিকদাইর, বিনাজুরী পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন এলাকার কারখানায় প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। প্রায় ৩০ জন মৃৎশিল্পসহ তিনশ জন কারিগর প্রতিমা তৈরির কাজে নিয়োজিত আছেন।

মৃৎশিল্পীরা জানান, দুর্গাপূজার অন্তত তিন মাস আগে থেকে প্রতিমার অর্ডার নেওয়া হয়। পূজা কমিটির পছন্দ অনুযায়ী প্রতিমা তৈরি করা হয়। এ কাজ করতে গিয়ে সময় ও ব্যয় দুটোর দিকে দৃষ্টি রাখতে হয়।

সরেজমিন উপজেলার নোয়াপাড়া পল্লী মঙ্গল সমিতির অদূরে অনিল পালের কারখানায় দেখা গেছে, ১০ থেকে ১৫ জন কারিগর বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এদের মধ্যে কেউ মাটি উপযোগী করছেন, কেউ প্রতিমা রোদে শুকাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ হাতের তুলিতে প্রতিমার গায়ে নানা রঙের অলপনা তুলছেন।

আরও পড়ুন : রঙ—তুলিতে সাজছে মা, করোনার ক্ষত সারাতে ব্যস্ত অমল সুজন সুশান্তরা

মৃৎশিল্পী অনিল পাল বলেন, এই পেশায় তিনি বংশ পরম্পরায় এসেছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে কাজ করছেন। এবার ৪০টি প্রতিমা তৈরির অর্ডার নিয়েছেন। ডিজাইন ভেদে এসব অর্ডার নেওয়া হয়েছে ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিমা তৈরির প্রতিটি উপকরণের দাম চড়া। রাত-দিন কাজ করেও উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। প্রাচীন এই শিল্পকর্মকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

আচার্য্যপাড়া এলাকার মৃৎশিল্পী প্রশান্ত আচার্য্য বলেন, প্রতিবছর ২০-২২টি প্রতিমা তৈরি করি। এবার অর্ডার হয়েছে ২০টি। তৎমধ্যে নিজের কারখানায় তৈরি করেছি ১৯টি। বাকিগুলো পূজা কমিটির দেওয়া নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি করা করা হয়েছে।

পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকার ঢেউয়াপাড়া অপরাজিতা সেবাশ্রমে প্রতিমা তৈরির কারখানার মৃৎশিল্পী রূপন চক্রবর্তী জানান এবার তিনি ১১টি প্রতিমা তৈরি করেছেন। প্রতিদিন ১২ জন কর্মচারী কাজ করছেন।

রাউজান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোরশেদ বলেন, দুর্গাপুজার সময় সরকারের পক্ষ থেকে সব পুজামণ্ডপের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবার পৌর এলাকা ও ১৪টি ইউনিয়নে ২২৮টি পুজামণ্ডপের তালিকা পাওয়া গেছে। তালিকার পরিমাণ হয়ত আরও বাড়তে পারে। তালিকা চূড়ান্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পর সব মণ্ডপের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, আগামী ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm