দেশজুড়ে হিন্দুদের ওপর হামলা, নির্যাতন, মঠ-মন্দির, ঘর-বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং জায়গা-জমি দখলের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের প্রতিবাদ সমাবেশ রূপ নেয় জনস্রোতে। এ সমাবেশে ও মানববন্ধনে জড়ো হন লাখো নারী-পুরুষ। এসময় মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে নগরের চেরাগী চত্বর। সমাবেশে উপস্থিত অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত প্লেকার্ড এবং মুখে কালো কাপড়।
শনিবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ হিন্দু জাগরণ মঞ্চ এ কর্মসূচির আয়োজন করে। বিকেল ৪টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ৩টা থেকে চেরাগীর চত্বরে জড়ো হতে থাকেন সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন। এসময় বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন স্লোগান সহকারে মিছিল নিয়ে সমাবশে আসতে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়।
আরও পড়ুন : ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান থাকলে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রয়োজন হতো না

সরেজমিন দেখা যায়, আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, চেরাগী মোড়, জামালখান, নন্দনকাননসহ আশপাশে এলাকায় লোকে লোকরণ্য হয়ে উঠে। প্রায় তিনঘণ্টা ধরে চলে এ কর্মসূচি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্মসূচি শেষ হয়। এরপর রাস্তা ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা যায়, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর শতাধিক সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় হিন্দুদের ওপর বর্বরোচিত হামলা-নির্যাতন, মঠ-মন্দির-ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং জায়গা-জমি দখল করা হয়। এসবের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে জানানো হয়, দেশব্যাপী নির্যাতন ও লুটপাটের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে সরকারি উদ্যোগের ক্ষতিগ্রস্ত ঘর ও মন্দির নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করেন তারা।

এদিকে সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধ, হামলাকারী চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচার এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বাস্তুহারাদের জায়গা জমি ফিরিয়ে দেওয়ায় সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে আগামী ১১ আগ্সট দুপুর ৩টায় নগরের আন্দরকিল্লা চত্বরে হবে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ ও সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চাভুক্ত সংগঠনসমূহ এ আয়োজন করেছে।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম
