মিরসরাইয়ে সিলিং ফ্যানে ঝুলছিল প্রবাসীর বউ, পরিবার বলছে খুন

মিরসরাইয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছেন নুসরাত জাহান মাহিয়া (১৯) নামের এক গৃহবধু।

শনিবার (৬ জুলাই) সকালে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকা থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

মাহিয়া একই এলাকার ওমান প্রবাসী মো. তসলিমের স্ত্রী এবং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছড়া এলাকার সাহাব উদ্দিনের মেয়ে।

জানা গেছে, শুক্রবার রাতে খাওয়া শেষে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান মাহিয়া। পরদিন সকালে নাস্তা করার জন্য ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে ভেতরে ঢুকে দেখা যায় ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন মাহিয়া। এরপর থানায় খবর দিলে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন : রাতের আঁধারে সিলিং ফ্যানে ঝুলল অভিমানী যুবক

নিহতের বাবা সাহাব উদ্দিন বলেন, আমার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে। তারা বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। সোফার জন্য তারা আমার মেয়েকে বিভিন্ন অপমানজনক কথা বলত। সেই সোফাসেট তৈরি হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার সোফার জন্য স্বামী তসলিমের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়েছে।

নিহতের ভাই শরীফ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে খুন করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়েছে। সে যদি আত্মহত্যা করতো তাহলে তার পা নিচে ফ্লোরে লাগানো ছিল কেন?

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নুসরাত জাহানের শাশুড়ি মঞ্জুরা খাতুন বলেন, আজ সকালে তাকে ঘুম উঠতে ডাকি। পরে আমার নাতিন (সামিরা) উঠে আসে। এরপর ছোট বউ ভেতরে গিয়ে দেখে নুসরাত গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে। তবে নুসরাতের পরিবারের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা ছিল না। কেন সে আত্মহত্যা করেছে তা বুঝতে পারছি না।

এ বিষয়ে নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মাসুদ খাঁন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, নুসরাত জাহান মাহিয়া নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। ময়নাতদনের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট এলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।

যোগাযোগ করা হলে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। তবে এ ঘটনায় থানায় এখনও কেউ অভিযোগ করেনি।

এএ/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm