চট্টগ্রামে নাচতে বাধা দেওয়ায় মেয়ের হাতে মা খুন

চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ কাট্টলীতে নৃত্য ও ইয়োগা অনুশীলনে বাধা দেওয়ায় মাকে খুন করেছে এক কিশোরী।

শুক্রবার (২৪ মে) পুলিশ হেফাজতে মেয়ে এমন স্বীকারোক্তি দেন বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের পাহাড়তলী জোনের সহকারী কমিশনার মো. মঈনুর রহমান।

এর আগে গত ২০ মে বিকেলে কোচিং শেষে বাসায় ফেরার পর ভারতীয় অভিনেত্রী ও শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী মালবিকা সেনের নৃত্য ও ইয়োগা অনুশীলন করছিল ওই কিশোরী। এ সময় মায়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কাঠের টুকরা দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে মেয়ে। এসময় আঘাতে মা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরদিন রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন : এনজিওর কর্মশালায় ভাতের প্যাকেট নিয়ে মারামারি, ছুরি মেরে খুন

নগর পুলিশের পাহাড়তলী জোনের সহকারী কমিশনার মো. মঈনুর রহমান জানান, সন্দ্বীপ উপজেলা আনোয়ারা বেগম (৫৭) পালিত মেয়েকে নিয়ে নগরের পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী ছদু চৌধুরী রোডে চৌধুরী আবাসিক এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। আনোয়ারা বেগমের দুই বিয়ে। প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তার প্রথম সংসারে তিন ছেলে। এছাড়া দ্বিতীয় সংসারে সন্তান না হওয়ায় মেয়েটিকে দত্তক নেন। দ্বিতীয় স্বামীও মারা যাওয়ার পর তার বোনের বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা দিয়ে এবং আগের সংসারের ছেলেদের সহযোগিতায় সংসার চালান। পালিত ওই মেয়ে ১৭ বছর বয়সী কিশোরী স্থানীয় একটি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

ওই মেয়ের বরাতে মো. মঈনুর রহমান জানান, ২০ মে বিকেলে মাকে আঘাত করে অজ্ঞান করে ফেলে রাখার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই মেয়ে আনোয়ারার আগের সংসারের বড় ছেলে আরিফুল হক মাসুমকে ফোন করেন। আরিফুল মাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে আইসিইউ না পেয়ে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ মে রাতে আনোয়ারা মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আরিফুল হক মাসুম বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ২৪ মে সন্ধ্যায় আনোয়ারা বেগমের পালিত মেয়েকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে মাকে খুনের বিস্তারিত বর্ণনা দেয় কিশোরী মেয়ে। আজ (২৫ মে) ওই কিশোরীকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজিরের মাধ্যমে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরএস/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm