কর্ণফুলীতে বাবা-ছেলেকে কোপানোর পর মামলা তুলে নিতে হুমকি

চট্টগ্রামে কথা কাটাকাটির জেরে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে সনাতনী সমাজ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ৩ মে কর্ণফুলী থানার বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দর (৩ নম্বর ওয়ার্ড) মহালখান এলাকার হিন্দুপাড়ায় রক্তাক্ত এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত রতন গুপ্ত ও তাঁর ছেলে হিমেল গুপ্ত। তাঁরা এখনও হাসপাতালে। তাদের মাথায় ১৮টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল সূত্র।

এদিকে হামলার ঘটনায় আহত রতন গুপ্তের আরেক ছেলে রুবেল গুপ্ত বাদি হয়ে কর্ণফুলী থানায় মামলা করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন— কর্ণফুলীর দক্ষিণ বন্দর শাহাদাত নগর এলাকার (৩ নম্বর ওয়ার্ড) শাহাদাত হোসেনের ছেলে মো. ইব্রাহিম (৫৫), মো. ইব্রাহিমের ছেলে ফরহাদ হোসেন (৩৩) ও রাহাত হোসেন (৩১) এবং একই এলাকার মামুন হোসেন চৌধুরীর ছেলে রিয়াদ হোসেন চৌধুরী (২৩)। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও তাদের ধরছে না কর্ণফুলী থানা পুলিশ। বরং মামলা তুলে নিতে তারা প্রতিনিয়ত দিচ্ছে হুমকি। এ অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটছে নির্যাতিত পরিবারের।

অপরদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার দাবিতে সিইএফএল সড়কে কাপকো সেন্টারের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সনাতনী সমাজ। শনিবার (১১ মে) বিকেলে এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জগদীশ সিংহ। সনাতন সমাজের নেতা পবন কুমার গুপ্তের সঞ্চালনায় এতে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রামের গোলপাহাড় মহাশ্মশান কালীমন্দির পরিচালনা পরিষদ সভাপতি দোদুল কুমার দত্ত সিআইপি।

বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল সেন, সনাতনী সমাজ জনকল্যাণ পরিষদের সহসভাপতি আদিনাথ সিংহ, ইউপি সদস্য রূপন বসু, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক অমিতাভ চৌধুরী বাবু, আনোয়ারা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এমএ মন্নান মান্না, নরেশ সরকার, শীতল ভৌমিক, জুয়েল সিংহ, সুপেন সিংহ, ১নং বৈরাগ ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি সুভাস সিংহ ও সাধারণ সম্পাদক রনি সিংহ, রবি সিংহ, রুপেন সেন এবং চিন্তা হরণ দাশ।

সমাবেশে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান গোলপাহাড় মহাশ্মশান কালীমন্দির পরিচালনা পরিষদ সভাপতি দোদুল কুমার দত্ত সিআইপি। এ সময় সনাতনী সমাজের নেতারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার আসামি সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে কর্ণফুলী থানার হিন্দুপাড়া, দাশপাড়া, সিংহ পাড়াসহ সনাতনী সমাজের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm