বান্দরবানে গুলিবিদ্ধ চার যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। রোববার (৬ মার্চ) রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলার মধ্যবর্তী তারাছা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড মংবাইতংপাড়া এলাকার নদীর দক্ষিণপাড় থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (৫ মার্চ) দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে ওই চারজন নিহত হন। ঘটনার একদিন পর রোববার (৬ মার্চ) পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের লাশ উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তবে সবার বয়স ২২ থেকে ৩৫-এর মধ্যে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের এক ক্যাডারকে গুলির পর অপহরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (৫ মার্চ) দুপুরে পিসিজেএসএস সন্তু গ্রুপের ওই ক্যাডারকে গুলির পর অপহরণ করে ইঞ্জিন বোটে নিয়ে যাওয়ার সময় দুপক্ষের গোলাগুলি হয়।
আরও পড়ুন: নোয়াপতংয়ে পাহাড়ি নারীকে ধর্ষণ, চিনে ফেলায় গলা কেটে ফেলে গেল ঝিরিতে
এদিকে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার দুপুর ৩টার দিকে সাঙ্গু নদীর কানাপাড়া ঘাটের কাছাকাছি একটি পয়েন্টে দুপক্ষের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সেনাবাহিনীর একাধিক টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা পালংক্ষ্যংয়ের কাছাকাছি নদীর পাড়ে ৪টি লাশ দেখতে পায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা ১২টার দিকে রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা নোয়াপাড়ায় কমব্যাট পোশাকপড়া একটি সশস্ত্র গ্রুপ পিসিজেএসএস সন্তু গ্রুপ ক্যাডার উনুমং মারমাকে (৪৫) গুলি করে আহত করে। এরপর তাকে নিয়ে তিনটি ইঞ্জিনচালিত বোটে করে যাওয়ার সময় পালংক্ষ্যং এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকা পিসিজেএসএসর একটি সশস্ত্র গ্রুপ নৌকার যাত্রীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। এসময় ইঞ্জিন বোট থেকেও পাল্টা গুলি নিক্ষেপ করা হয়।
পরে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি নদীর পাড়ে ৪টি লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ মগ ন্যাশনাল লিবারেশন পার্টি (এমএনএলপি) ক্যাডাররাই কমব্যাট পোশাক পরিধান করে থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, এমএনএলপি সদস্যরা পিসিজেএসএস সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা জনসংহতি ক্যাডারদের এমবুসের মুখে পড়ে।
আরও পড়ুন: ৫ খুন—জুম চাষের বিরোধেই, ৪ ছেলেসহ পাড়াপ্রধানকে কুপিয়ে হত্যা
স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুর ২টায় দুপক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। তখন ঘর থেকে ভয়ে কেউ বের হয়নি। পরে খবর পেয়ে দিবাগত রাত ৩টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এরা মগ লিবারেশন পার্টির সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
বান্দরবান পুলিশ সুপার জেরিন আখতার বলেন, এখানে বেশ কয়েকটি সংগঠন সক্রিয় আছে। তাদের নিজেদের মধ্যে সমস্যা আছে। এটা সাধারণ মানুষের সমস্যা না। এটা সংগঠনগুলোর সমস্যা। এটারও বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে।
এসি


