‘মায়ের আত্মাহুতি’—ছেলেকে বাঁচাতে ছেড়ে দিলেন নিজের আইসিইউ

করোনায় আক্রান্ত শিমুল পাল (৩৮) শ্বাসকষ্টে ছটফট করেছিলেন চট্টগ্রাম জেলারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে। তাঁকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও কোনো বেড খালি ছিল না।

হাসপাতালেরই আইসিইউতে মুমূর্ষ অবস্থায় ছিলেন শিমুলের মা প্রভা রাণী (৬৮)। ছেলের শ্বাসকষ্টের খবর পেতেই ইশারায় ডাকলেন ডাক্তারকে। এরপর হাতের ইশারায় দেখালেন লাইফ সাপোর্টের সরঞ্জাম খুলে তাঁর ছেলেকে এখানে নিয়ে আসতে।

পরিবারের সম্মতিতে সাধারণ বেড থেকে শিমুলকে নিয়ে যাওয়া হলো আইসিইউতে। কিন্তু আইসিইউ থেকে আসার এক ঘণ্টার মধ্যেই মা প্রভা রানী চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

বুধবার (২৮ জুলাই) রাতের ঘটনা এটি।

ছেলের জন্য মায়ের এই ত্যাগের ঘটনা সবাইকে বাকরুদ্ধ করেছে। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাদের বাড়ি কোতোয়ালী থানার সিএনবি কলোনি এলাকায়।

জানা যায়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মা-ছেলে। মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় আইসিইউতে নেওয়া হয়। ছেলে ভর্তি ছিলেন সাধারণ ওয়ার্ডে। তবে ধীরে ধীরে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকে ছেলের। তারও প্রয়োজন হয় আইসিইউর বেড। কিন্তু হাসপাতালের ১৪টি আইসিইউ রোগীতে ভর্তি থাকায় বেড পাওয়া যাচ্ছিল না।

অভিন্ন অবস্থা ছিল চট্টগ্রামের প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতেও। কোথাও খালি নেই আইসিইউ শয্যা। এ অবস্থায় এগিয়ে আসেন মমতাময়ী মা। মায়ের অনুরোধেই তাকে আইসিইউ থেকে নামিয়ে সেখানে তোলা হয় ছেলেকে।

মর্মান্তিক এ ঘটনার বিষয়ে জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রব জানান, আইসিওতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে থাকা মায়ের কানে ছেলের মুমূর্ষ অবস্থার খবর যেতেই তিনি ছেলের জন্য আইসিও ছেড়ে দিলেন। কিন্তু একঘণ্টা পর করোনার কাছে হার মেনে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান৷ এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা।

ছেলের অবস্থাও আশঙ্কজনক বলেও জানান তিনি।

চৌধুরী মাহবুব
1 মন্তব্য
  1. আজমীর শরীফ বলেছেন

    মা তো মা,,,মায়ের কোন তুলনা হয় না। মায়ের জায়গায় যদি উনার স্ত্রী হতো কখনোই এ কাজ করত না।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm