সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। তবে পর্যটন মৌসুম শুরুর আগে এখনো কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চূড়ান্ত চলাচলের অনুমতি পায়নি। এতে জাহাজের মালিক ও দ্বীপের পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে লোকসানের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এবার পরিবেশ সংরক্ষণে টেকনাফ ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হচ্ছে। পর্যটকদের কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট দিয়ে দ্বীপে যেতে হবে। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় ১ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। এ বিষয়ে আগামী ৪ নভেম্বর সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, প্রায় ১০টি জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও চূড়ান্ত সরকারি অনুমোদন পাওয়া যায়নি। সময়মতো জাহাজ চালু করতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে।
এদিকে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা পর্যটনশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দুই শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁয় প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এছাড়া প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন জেটির কাজ শেষ হয়নি। পর্যটকদের নিরাপদে ওঠানামার জন্য জেটির পন্টুন ও প্ল্যাটফর্ম দ্রুত মেরামতের দাবি জানান তিনি।
জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনী জাহান আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আগ্রহী জাহাজগুলোর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্নের চেষ্টা করা হচ্ছে।
একই প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার টেকনাফ ঘাট থেকে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। ১ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। আগামী ৪ নভেম্বর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আলোকিত চট্টগ্রাম

