চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপির) বন্দর থানার ক্যাশিয়ার পরিচয়ে এলাকায় বিভিন্ন স্পট থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে একই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গফুর প্রকাশ গফুরের বিরুদ্ধে।
মাদকের স্পট, জুয়ার আসরসহ বিভিন্ন অবৈধ স্পট থেকে থানার মাসোহারার নামে তিনি আদায় করেন ১০ লাখ টাকা। এছাড়া নিজের নামেও আলাদাভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআই গফুর বন্দর থানার স্বঘোষিত ক্যাশিয়ার। দীর্ঘদিন থাকার কারণে থানায় ওসির দায়িত্বে যেই আসুক তিনি নিজেকে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর থানার ক্যাশিয়ার পরিচয়ে মাদকের স্পট, জুয়ার আসর ও বিভিন্ন অবৈধ স্পট থেকে আদায় করেন মাসোহারা। কোনো স্পট থেকে ওসির নামে ১০ হাজার টাকা নিলে এসআই গফুর নিজের নামে নেন ৫ হাজার টাকা মাসোহারা। এভাবে থানা এলাকার বিভিন্ন স্পট থেকে প্রতিমাসে তিনি আদায় করেন ১০ লাখ টাকা চাঁদা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, এসআই গফুর গত দুবছর সল্টগোলা ক্রসিং পুলিশ বক্সের দায়িত্বে ছিলেন। এসময় পুলিশ বক্সটিকে তিনি চাঁদা আদায়ের কেন্দ্রে পরিণত করেন। বক্সের পাশে রেলবিট ও আশপাশের প্রায় ১০/১৫টি দোকানের প্রতিটি থেকে মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে ভাড়ার নামে চাঁদা আদায় করেন। এছাড়া এসব দোকান থেকে দৈনিক ভিত্তিতে আদায় করেন ৫০ টাকা করে চাঁদা। এখন তাকে থানায় বদলি করা হলেও এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এখনো থানার ক্যাশিয়ার পরিচয়ে তিনি চাঁদা আদায় করছেন।
আরও পড়ুন: বেপরোয়া মাইক্রোবাস পিষে মারল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে
আবুল কাশেম নামের ইপিজেড এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, এসআই গফুরের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ইপিজেড এলাকার ব্যবসায়ীরা। তিনি পুলিশের পোশকক পরে যখন-তখন বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে গিয়ে কাস্টমারদের হয়রানি করেন। নানা অজুহাতে ব্যবসায়ীদের থেকে দাবি করেন চাঁদা। বলেন, এখানে ব্যবসা করতে গেলে থানায় কোটা (মাসোহারা) দিতে হবে। তা না হলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হবে বলেও হুমকি দেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর নগরের পাঁচলাইশ থানা থেকে বন্দর থানায় যোগ দেন এসআই আব্দুল গফুর। যোগদানের কিছুদিন পর থানা থেকে তাকে সল্টগোলা বক্সের ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে থানায় আসা প্রত্যেক ওসির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে গত আড়াই বছর ধরে থানার ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
ইপিজেড এলাকার ৪ রেস্টুরেন্ট থেকে ৪০ হাজার টাকা করে মাসে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, থানা এলাকার ১০টি মাদকের স্পট থেকে ১০ হাজার করে ১ লাখ টাকা, ৪টি জুয়ার আসর থেকে ১ লাখ করে ৪ লাখ টাকা, ১০টির বেশি পতিতাবৃত্তির স্পট থেকে ১০ হাজার করে ১ লাখ টাকারও বেশি এবং ২০টির অধিক ভাঙারির দোকান থেকে ৮ হাজার করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন এসআই গফুর। এভাবে মাসে তিনি ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন।
স্থানীয় শহীদুল ইসলাম জানান, আব্দুল গফুর পুলিশ অফিসার হলেও এলাকার সবাই তাকে থানার ক্যাশিয়ার হিসেবেই জানে। থানায় যে ওসিই আসুক গত আড়াই বছর ধরে তার নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায় করেছেন তিনি। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও মিথ্য হয়রানির ভয়ে খোলামেলা কেউ কিছু বলছেন না।
অভিযুক্ত এসআই আব্দুল গফুরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এবিষয়ে তাঁর উর্ধ্বতন অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এসময় থানার ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন এবং চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে প্রতিবেদককে খোঁজ নিতে বলেন।
যোগাযোগ করা হলে সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি-বন্দর জোন) শাকিলা সোলতানা আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমি মাত্র (১৪ আগস্ট) দায়িত্ব নিয়েছি। এ বিষয়ে আমি খবর নিয়ে দেখবো। ঘটনার সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


