পটিয়ায় তানিয়া কামাল নিহাত নামে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৪টার দিকে হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই গ্রামের নিজ ঘরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বামী নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পটিয়া থানা পুলিশ।
তানিয়া কামাল নিহাত উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিনখাইন গ্রামের মো. কামালের মেয়ে।
তানিয়ার মা মোর্শেদা বেগম অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য নানাভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন করে আসছিল শাশুড়ি, ননদসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ নিয়ে থানা ও স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিস বৈঠক হয়। সম্প্রতি এ বিরোধের মীমাংসা হয়। এরপর থেকে কয়েক মাস ধরে স্বামীসহ মেয়ে বাপের বাড়িতেই বসবাস করছিল। বর্তমানে মেয়ে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
তিনি বলেন, স্বামীর অনুরোধে রোববার একদিনের জন্য মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠাই। রাত ১টার দিকে মেয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথাও বলি। এ সময় মেয়ে সুস্থ আছে বলে জানায়। কিন্তু রাত ৪টার দিকে হঠাৎ মেয়ের স্বামী নুর উদ্দিন ফোন করে বলেন— আপনার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে । আমরা তাকে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে আসছি। আপনারা আসেন। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে মেয়েকে না পেয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে দেখতে পাই— মেয়ের মাথার পেছনে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন।
তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলছেন, রোববার তিনবার বিরিয়ানি খেয়েছে তানিয়া কামাল নিহাত। তাই ফুড পয়জনে তার মৃত্যু হয়েছে।
জানতে চাইলে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে এ ঘটনায় স্বামী নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আলোকিত চট্টগ্রাম

