রাউজানজুড়ে ক্ষতবিক্ষত রাস্তা, জনদুর্ভোগ চরমে

রাউজানজুড়ে এখন রাস্তার বেহাল দশা। গুরুত্বপূর্ণ অনেক রাস্তায় এখন বড় বড় গর্ত। তাই স্থানীয়দের যাতায়াত করতে হচ্ছে ঝুকিঁ নিয়ে। আবার ক্ষতবিক্ষত রাস্তার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গাড়িও। সবমিলিয়ে জনদুভোর্গ চরমে।

উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার এখন কঠিন অবস্থা। যার মধ্যে রয়েছে— উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর সর্তা হজরত আলী হোসেন শাহ সড়ক, দুর্গাচরন সড়ক, এয়াসিন শাহ সড়ক, শহীদ জাফর সড়ক ও হলদিয়া ভিলেজ রোড, ডাবুয়া ইউনিয়নের গনির ঘাট সড়ক ও আমির চৌধুরী সড়ক, পশ্চিম ডাবুয়ার হযরত আকবর শাহ সড়ক, রায়কিশোরী সড়ক, ধরবাড়ী সড়ক, গোসাইর হাট সড়ক, সুড়ঙ্গা হাসান খীল সড়ক, দক্ষিণ হিংগলা কলমপতি সড়ক ও দক্ষিণ হিংগলা শান্তি নগর সড়ক,  চিকদাইর ইউনিয়নের সাহেব বাড়ী সড়ক, চিকদাইর পাঠানপাড়া সড়ক, দক্ষিণ সর্তা আকবর শাহ সড়ক, হিংগলা নতুনপাড়া সড়ক ও হিংগলা সুন্দরপাড়া সড়ক, গহিরা ইউনিয়নের ইছাপুর সড়ক, বদিরইর রহমান সড়ক ও প্রাণকৃষ্ণ মহাজন সড়ক, নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের মিনা গাজী সড়ক, নদীমপুর সড়ক ও গহিরা হেয়াকো সড়ক, বিনাজুরী ইউনিয়নের পশ্চিম বিনাজুরী সড়ক, ইদিলপুর সড়ক, সাহেব বিবি সড়ক, লেলাঙ্গারা সড়ক ও জাম্বইন সড়ক, ৭নং রাউজান ইউনিয়নের রামধন ধর সড়ক ও সাহেব বিবি সড়ক, পশ্চিম রাউজান বড়ুয়াপাড়া সড়ক, চান মিয়া চৌধুরী সড়ক, রানীপাড়া সড়ক, সুলতান আউলিয়া সড়ক, আধার মানিক ডিসি সড়ক, হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক, রাউজান নোয়াপাড়া সড়ক সেকশন ২ ও রশিদরপাড়া সড়ক, ৮নং কদল্পুর ইউনিয়নের হরানাথ ছড়া সড়ক, হযরত আশরফ শাহ সড়ক, ভোমরপাড়া সড়ক ও পশ্চিম কদলুপুর বড়ুয়াপাড়া সড়ক, ৯নং পাহাড়তলী ইউনিয়নের রাউলী সড়ক, দেওয়ানপুর সড়ক ও জগৎপুর আশ্রম সড়ক, বাগোয়ান ইউনিয়নের কোয়েপাড়া সড়ক, পাঁচখাইন লাম্বুর হাট সড়ক ও গশ্চি মোহাম্মদজ্জমা সড়ক, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের উভলং সূর্য সেন পল্লী সড়ক, কচুখাইন গনির ঘাট বাজার সড়ক, ছমিদর কোয়াং সড়ক, ঝিকুটিপাড়া সড়ক ও  পশ্চিম নোয়াপাড়া সড়ক, উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া সড়ক, উরকিরচর এন্ডারসন সড়ক, ঢাকাখালী আবুরখীল সড়ক ও উরকিরচর বাড়ী ঘোনা সড়ক, পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের আধার মানিক বামাচরন সড়ক, মোহসেন আলী বাপের বাড়ী সড়ক, আধার মানিক নতুন চৌধুরী বাজার সড়ক, শেখ আনসার আলী সড়ক, বড় ঠাকুরপাড়া সড়ক ও  হেয়ারাপাড়া রাউলী সড়ক, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের সরকারপাড়া সড়ক, ডা. রাজা মিয়া সড়ক, ডেমখালী সড়ক, মাওলানা রুহুল আমিন সড়ক, উত্তর গুজরা সড়ক ও মিরধারপাড়া সড়ক, রাউজান পৌরসভার আইলী খীল ওয়াহেদের খীল সড়ক, রহমতপাড়া সড়ক, রাউজান রাবার বাগান সড়ক, তালুকদার বাড়ী সড়ক, দাওয়াত খোরা সড়ক, রামকৃষ্ণ মিশন সড়ক, হেদু মিয়া বাড়ী চৌধুরী সড়ক, নাগেশ্বর গার্ডের সড়ক, দাশপাড়া সড়ক, পালিতপাড়া সড়ক, রাউজান নোয়াপাড়া সড়ক সেকশন ২, দলিলাবাদ সড়ক, বড়বাড়ীপাড়া সড়ক, টোনার মা সড়ক, নন্দীপাড়া সড়ক, জগৎ ধর সড়ক, সুলতানপুর কাজীপাড়া সড়ক, ক্ষেত্রপাল বিগ্রহ মন্দির সড়ক, বণিকপাড়া সড়ক, পূর্ব গহিরা সড়ক, কজান বাহাদুর আবদুল জব্বার চৌধুরী সড়ক, মাইজপাড়া সড়ক,  পশ্চিম গহিরা আবুদ্যার বাড়ী সড়ক, মাঘা শাস্ত্রি বড়ুয়াপাড়া সড়ক ও অংকুরী ঘোনা সড়ক।

এসব রাস্তার বিভিন্ন স্থানে সলিং করা ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিটুমিন কার্পোটং নির্মাণ করা সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। আরসিসি ঢালাইয়ে নির্মিত সড়কগুলোরও বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই আঞ্চলিক মহাসড়ক ও চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে ড্রাম ট্রাকে করে মাটি পরিবহন করা হয়। এ সময় ট্রাক থেকে মাটি পড়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদামাটি জমে পিচ্ছিল হয়ে হয়ে পড়েছে। আবার রাউজানে কৃষি জমি, পাহাড় ও টিলা থেকে মাটি কেটে পরিবহনও এ অবস্থার জন্য দায়ী।

এদিকে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে উপজেলার অনেক স্থানে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়িসহ বাণিজ্যিক স্থাপনা। এতে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে পানি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক।

ক্ষতবিক্ষত রাস্তার কারণে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় স্থানীয়দের। এ ঝুঁকি থেকে বাদ যায় না স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও। শিক্ষক মৃদুল বড়ুয়া বলেন, রাস্তার বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।

আবার খারাপ রাস্তার কারণে যাত্রীদের পাশাপাশি স্বস্তিতে নেই চালকরাও। অটোরিকশা চালক শাহ আলম বলেন, প্রতিদিন ক্ষতবিক্ষত রাস্তা দিয়ে অটোরিকশা চালাতে হয়। প্রায় প্রতিদিনই অটোরিকশা মেরামত করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, কিছু সড়কের নির্মাণকাজ না করে ঠিকাদার উধাও হয়ে যায়। কাজ শেষ করতে ঠিকাদারদের বারবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা কাজ করেনি। এসব ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন করে টেন্ডার দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতবিক্ষত কিছু সড়কের নির্মাণকাজ করার জন্য তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে নিয়ম অনুসারে টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm