ফটিকছড়িতে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও মাটি মিশ্রিত বালু দিয়ে চলছে বাগানবাজার ইউনিয়নের গার্ডের দোকান থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজ। এর প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান! পুলিশ বলছে, চাঁদাবাজির অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মেয়াদ আর মাত্র দুই মাস। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কটির পুনর্বাসন কাজ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনুমোদিত হয়। আগামী জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ! যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এ এস বি লিমিটেড ও ফামানটেক কর্পোরেশন।
২০২৫ সালের শেষদিকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শুরু থেকেই নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের খোয়া, সুরকি ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এদিকে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে উপজেলা প্রকৌশল অফিস সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করে এবং নিম্নমানের উপকরণ অপসারণের নির্দেশ দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশনা উপেক্ষা করে পুরনো নিম্নমানের উপকরণ দিয়েই পুনরায় কাজ শুরুর চেষ্টা করা হয়। এতে এলাকাবাসী বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভূজপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়— গত ২২ এপ্রিল সকালে কয়েকজন ব্যক্তি প্রকল্প এলাকায় এসে ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলা হলে তারা সরে যান। পরে ২৯ এপ্রিল আবারও একই দাবিতে এসে টাকা চাইলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এ সময় তারা গালাগালি করে এবং জোরপূর্বক কাজ বন্ধ করে দেয়।
প্রকল্পের প্রকৌশলী মো. রাশেদ বলেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি টেন্ডার না পেয়ে শুরু থেকেই কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন এবং চাঁদা দাবি করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তাদের পরামর্শেই থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে ফামানটেক কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আরিফের দাবি, ইটভাটা থেকে সরবরাহ করা নিম্নমানের খোয়া পরে অপসারণ করা হয়েছে। এরপরও একটি পক্ষ চাঁদা দাবি অব্যাহত রাখায় আমরা থানায় অভিযোগ করেছি।
তবে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। সড়কের কাজের মানসংক্রান্ত বিষয় প্রকৌশল অধিদপ্তর দেখবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের উপকরণ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আলোকিত চট্টগ্রাম


