রক্তাক্ত রাউজান

বিএনপির দুগ্রুপে দফায় দফায় সংর্ঘষে গুলিবিদ্ধ ১, আহত ১৩

আবার রক্তাক্ত হয়েছে রাউজান। ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের অন্তত ১৩ জন। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পাঁচটি মোটরসাইকেল।

উপজেলার নোয়াজিষপুরের ইউসুফ খাঁর দীঘি এলাকায় বুধবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এবং বিকেল ৪টায় একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মদন চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে সংঘর্ষে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী গুলিবিদ্ধ যুবদল কর্মী মো. কাইয়ুম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী যুবদল নেতা গাজী মোরশেদ গুরুতর আহত হয়েছেন। কাইয়ুম কপালে গুলিবিদ্ধ হন এবং কিরিচের কোপে গাজী মোরশেদের পেটের ভুঁড়ি বের হয়ে যায়। বর্তমানে আহতরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন : রাউজানে মধ্যরাতে খুন যুবদল কর্মী, নেপথ্যে বিএনপি নেতা?

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, নোয়াজিষপুর মদন চৌধুরী জামে মসজিদ মাঠে গোলাম আকবর খন্দকারের আনুসারী নোয়াজিষপুর ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনে যৌথ উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন চলছিল। এসময় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা ২০-২৫টি মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালায়। এতে মো. কাইয়ুম নামে এক যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হুমায়ুন (২৮), যুবদল সদস্য মো. রিফাত (২৭), যুবদলের সদস্য সচিব মো. সোহেল, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফোরকান সিকদার (৪৪), বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেকে আহত হন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গিয়াস উদ্দিন কাদেরের অনুসারীরা চিকদাইর ইউনিয়নের ইফতার মাহফিল থেকে ফেরার পথে ইউসুফ খাঁর দীঘির সামনে গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীরা পথ আটকে গুলিবর্ষণ ও কিরিচ দিয়ে হামলা চালায়। অনেকে মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। এসময় পাঁচটি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে যুবদল নেতা মোরশেদ, মো. সেকান্দর, মো. বাদশা ও মো. ফোরকান আহত হন।

এ বিষয়ে গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী নোয়াজিষপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফোরকান সিকদার বলেন, আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ধ্যায় তাদের ওপর কারা হামলা করেছে জানি না।

একই বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী উত্তর জেলা যুবদল নেতা সেলিম উদ্দিন বলেন, ইফতার মাহফিল থেকে ফেরার পথে গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীরা আমাদের মোটরসাইকেল বহরে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তিনি।

যোগাযোগ করা হলে রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুইয়া আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

এসএ/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm