শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু হলো শুভ মহালয়া উদযাপনের মাধ্যমে। আজ (২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরে দিনজুড়ে নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে দেবীপক্ষের সূচনা এই মহালয়া।
এ উপলক্ষে ভোর থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে আয়োজন করা হয় পূজা ও চণ্ডীপাঠের। পূজা শেষে ভক্তদের দেওয়া হয় অঞ্জলি। প্রার্থনা করা হয় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায়। এছাড়া সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় সঙ্গীতানুষ্ঠান ও নৃত্যানুষ্ঠান।
এদিকে মহালায়র কর্মসূচিতে আসা ভক্তরা আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।
অন্যদিকে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কার্যালয়ের সকাল ৮টায় মহালয়া পূজার আয়োজন করে। এসময় মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে শুভ মহালয়ার উদ্বোধন করা হয়। এরপর চণ্ডী পূজা শেষে ভক্তদের দেওয়া হয় অঞ্জলি। এছাড়া দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় করা হয় প্রার্থনা।
আরও পড়ুন : দেবীপক্ষের সূচনা—মহালয়া আজ
অঞ্জলি দিতে আসা সুমি চৌধুরী বলেন, মা দুর্গা একবছর পর আমাদের কাছে আবার আসছেন। আজ আমরা মায়ের আগমনীতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেছি। আমরা চাই প্রতিবছরের মতো এবার পূজা উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হোক। তাই পূজা নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা জোরদার কর হোক।
এদিকে আজ বিকেল ৫টায় নগরের জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে মহানগর পূজা পরিষদ জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন ১৬ থানার পূজা কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে। এরপর বিকেলে ৫টা থেকে চণ্ডীপাঠ করা হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সঙ্গীতানুষ্ঠান ও নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মহানগর পূজা পরিষদ সভাপতি লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, প্রতিবছরে মতো এবারও আমরা মহালয়া নানা ধর্মীয় কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করেছি। মহালয়ার মাধ্যমেই পূজার ক্ষণগণনা শুরু হলো। চণ্ডীপাঠ ও পূজার মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানানো হলো কৈলাশ থেকে মর্ত্যে আসার।
তিনি বলেন, আগামী ৮ অক্টোবর মহাপঞ্চমী থেকে শুরু করে ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমী পর্যন্ত জেএমহল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শারদীয় দুগোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পূজার প্রতিটি আয়োজনে ভক্তদের উপস্থিতি ও সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
মহালয়ার অর্থ— মহান আলোয় দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে আবাহন। পুরাণমতে, এদিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। মহালয়া শব্দের সন্ধি হলো মহা+আলয়। মহা শব্দের অর্থ বিশাল এবং আলয় শব্দের বাড়ি বা গৃহ। দুর্গাপূজার দুই পক্ষের একটি পক্ষ হলো পিতৃপক্ষ, অন্যটি দেবীপক্ষ। পিতৃপক্ষের অবসান হলে সূচনা হয় দেবীপক্ষের।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম


