দেবীপক্ষের সূচনা শুভ মহালয়া আজ (২ অক্টোবর)। মহালয়ার অর্থ— মহান আলোয় দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে আবাহন। চণ্ডী পাঠের মধ্যদিয়ে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া হিসেবে পরিচিত।
পুরাণমতে, এদিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। আজ মহালয়ার মধ্যদিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের সূচনা ও সময় গণনা। আজকের এই দিনে দেবীকে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে আসার আহ্বান জানিয়ে পূজা, চণ্ডীপাঠ ছাড়াও নানা আয়োজন রয়েছে মণ্ডপে মণ্ডপে।
মহালয়া শব্দের সন্ধি হলো মহা+আলয়। মহা শব্দের অর্থ বিশাল এবং আলয় শব্দের বাড়ি বা গৃহ। দুর্গাপূজার দুই পক্ষের একটি পক্ষ হলো পিতৃপক্ষ, অন্যটি দেবীপক্ষ। পিতৃপক্ষের অবসান হলে সূচনা হয় দেবীপক্ষের।
আরও পড়ুন : দুর্গাপূজা উৎসবের মধ্যদিয়ে পালনে পরিপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে : আইজিপি
শাস্ত্র মতে, ত্রেতা যুগে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র অকালে দেবীকে আরাধনা করেছিলেন লঙ্কা জয় করে সীতাকে উদ্ধারের জন্য। শ্রীরামচন্দ্র অকালে-অসময়ে পূজা করেছিলেন বলে এই শরতের পূজাকে দেবীর অকালবোধন বলা হয়। মূল দুর্গাপূজা হলো বসন্তে, সেটাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়।
সনাতন ধর্মে তিনটি অমাবস্যার কথা উল্লেখ রয়েছে। এগুলো হলো— আলোক অমাবস্যা, মহালয়া অমাবস্যা এবং দীপান্বিতা অমাবস্যা। অমাবস্যা স্ত্রী লিঙ্গবাচক শব্দ। মহালয়া অমাবস্যা হয় আশ্বিন মাসে। অমাবস্যা তিথিতে পিতৃপক্ষের শেষ হয়, আর পরদিন প্রতিপদ তিথিতে শুরু হয় দেবীপক্ষের।
সনাতন ধর্মে কোনো শুভ কাজ করতে গেলে, বিবাহ করতে গেলে প্রয়াত পূর্বরা, যাদের পিতা-মাতা তাদের পিতা-মাতার জন্য, সাথে সমগ্র জীব-জগতের জন্য তর্পণ করতে হয়, কার্যাদি-অঞ্জলি প্রদান করতে হয়। তর্পণ মানে খুশি করা। সেই অনুসারে এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ-মাতৃহীন তারা পূর্বপুরুষকে স্মরণ করে, পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন।
সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিনে প্রয়াত আত্মাদের মর্ত্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রয়াত আত্মার যে সমাবেশ হয় তাকে মহালয় বলা হয়। মহালয় থেকে মহালয়া। পিতৃপক্ষেরও শেষদিন এটি।
হিন্দু পুরাণ মতে, সৌর উত্তরায়ণকালে বিষ্ণুলোকে যখন দিন, যমলোকে তখন রাত-দক্ষিণায়ন। উত্তরায়ণের ছয় মাস দেবতারা জেগে থাকেন, বিষ্ণুলোকের তোরণ থাকে অবারিত। দক্ষিণায়নের ছয় মাস দেবতারা নিদ্রিত। কিন্তু যমলোকে দিনমান, দুয়ার খোলা। দক্ষিণায়নের পয়লা দিনে ঘুম ভেঙে জেগে উঠেই বন্ধ দুয়ার ঠেলে পিতৃপুরুষেরা ছুটে আসবেন মর্ত্যলোকে। এ সময় তারা থাকেন ক্ষুধার্ত-তৃষ্ণার্ত। সেই অর্থে মহালয়া মর্ত্যলোকে পরলোকগত পিতৃগণের একত্র ক্ষণিক আবাস। দশ প্রহরণধারিণী দেবী দুর্গার আগমন—ক্ষণে এ যেন ‘নান্দিমুখ’।
আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে কেমন চলছে পুজোর প্রস্তুতি, কী বলছেন হিন্দু নেতারা
পঞ্জিকা মতে, দেবী দুর্গা এবার মর্তে আগমন করবেন দোলা বা পালকিতে। ৮ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহাপঞ্চমী ও ৯ অক্টোবর (বুধবার) ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। আর গমন করবেন ঘোটকে বা ঘোড়ায়। ১৩ অক্টোবর (রোববার) বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব।
এদিকে মহালয়া উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আয়োজনে করাহয়েছে চণ্ডীপাঠ, আরতি, সঙ্গীতানুষ্ঠান, প্রদীপ প্রজ্বলন, আলোচনা সভা, বস্ত্র ও প্রসাদ বিতরণ।
এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন আয়োজনে মহালয়া উদযাপন করবেন বলে জানিয়েছেন পরিষদের সভাপতি লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য।
তিনি আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, মহালয়ায় কর্মসূচির মধ্যে সকাল ৮টায় শুভ মহালয়া পূজা, বিকেল ৪টায় শ্রীশ্রী চণ্ডী পাঠ, বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সঙ্গীতানুষ্ঠান ও নৃত্যুনুষ্ঠান। এতে ভক্তদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলোকিত চট্টগ্রাম

