বিশ্বায়নের নতুন অভিযাত্রায় যুক্ত হলো ১২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী আল-জামেয়াতুল আরাবিয়াতুল ইসলামিয়া জিরি মাদ্রাসা। একসময় যেখানে কেবল কোরআন-হাদিস, ফিকহ ও আরবি শিক্ষার আলো ছড়াত, শতবর্ষোর্ধ্ব সেই কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হয়েছে আন্তর্জাতিক ৬ ভাষার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট! এটিকে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা।
গত ২৬ জুন জুমার নামাজের আগে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে নবনির্মিত দাওয়াহ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও রেসিডেন্সিয়াল ছাত্র কল্যাণ ভবনের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ভাষাগত দক্ষতা জ্ঞান, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। জিরি মাদ্রাসার এই উদ্যোগ শুধু ধর্মীয় শিক্ষাকে নয়, দাওয়াহ কার্যক্রম ও বৈশ্বিক যোগাযোগকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এখানকার শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামের সৌন্দর্য ও মানবিক বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, কওমি শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক ভাষা শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয় সময়ের দাবি। জিরি মাদ্রাসা সেই সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে, যা দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, নবপ্রতিষ্ঠিত দাওয়াহ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি, স্প্যানিশ, তুর্কি, জাপানি, চীনা ও আরবি ভাষায় বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। প্রশিক্ষণ শেষে কাতার ও জর্ডানের আন্তর্জাতিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় দেওয়া হবে সনদ। এই প্রশিক্ষণ শুধু মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, কওমি শিক্ষার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষার সমন্বয় বাংলাদেশের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, তুরস্ক, জাপান ও চীনে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং ইসলামিক স্টাডিজের ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। জিরি মাদ্রাসার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক দরজা উন্মুক্ত করবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, একই দিন আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য রেসিডেন্সিয়াল ছাত্র কল্যাণ ভবনেরও উদ্বোধন করা হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এ ভবন চালু হওয়ার ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট অনেকাংশে দূর হবে।
এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ও জিরি মাদ্রাসার শিক্ষক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমি মাদরাসাটির হাদিস বিভাগের উস্তাদ হিসেবে এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। যে ছয়টি ভাষা এখানে ছাত্রদের শিক্ষা দেওয়া হবে তা ব্যতিক্রমধর্মী। এতে বাংলাদেশি ছাত্রদের ওইসব দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
যোগাযোগ করা হলে মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা খোবাইব বিন তৈয়ব বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথম আন্তর্জাতিক ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু হলো। এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের দাওয়াহ কার্যক্রম, উচ্চশিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, ঐতিহ্য রক্ষা করে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ভাষাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আরও প্রস্তুত হবে।
আলোকিত চট্টগ্রাম


