আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, চট্টগ্রাম-৪ আসন ঘিরে দুই প্রশ্ন

চট্টগ্রামে এখন আলোচনার কেন্দ্রে সীতাকুণ্ড আসন। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের পরপরই সামনে চলে এসেছে দুটি প্রশ্ন। আসনটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে? নাকি ফের নির্বাচন হবে সীতাকুণ্ডে?

তবে নির্বাচন কমিশনের সোজা সাফ কথা— ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের চট্টগ্রাম-৪ আসনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ীই। যদিও আদালতের সংক্ষিপ্ত রায়ে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আদেশের কপি পেলে তা পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আদালত যেভাবে নির্দেশ দেবেন, আমরা সেভাবে ব্যবস্থা নেবো। আদালত যদি নতুন করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন করার নির্দেশ দেন তাহলে আসনটিতে আবার নির্বাচন হবে। আর আদালত যদি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন, তাহলে সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে যোগ দিলেও দুজন এখনও শপথ নিতে পারেননি। এর মধ্যে একজন চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনের আসলাম চৌধুরী। অন্যজন ফটিকছড়ি-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। আগামী বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) চট্টগ্রাম-২ আসনের বিষয়ে হাইকোর্টে শুনানির কথা রয়েছে।

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে প্রার্থী ছিলেন বিএনপির আসলাম চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার ছিদ্দিক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মো. মছিউদদৌলা, গণঅধিকার পরিষদের এটিএম পারভেজ, গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম, নেজামে ইসলামী পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ, ইসলামী আন্দোলনের দিদারুল মাওলা, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপির শহীদুল ইসলাম চৌধুরী ও ইসলামী ফ্রন্টের সিরাজুদ্দৌলা।

নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী পান ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট। তিনি বেসরকারিভাবে জয়ী হলেও আদালতের নির্দেশে ফলাফল স্থগিত রাখে নির্বাচন কমিশন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক পান ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট।

এদিকে ঋণখেলাপি হওয়ায় আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন।

এখন এই আসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি সেখানে নতুন করে নির্বাচন হবে, আদালতের সংক্ষিপ্ত রায়ে তা স্পষ্ট হয়নি।

রায়ের পর আনোয়ার সিদ্দিকীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, প্রচলিত নিয়মে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ব্যক্তি অযোগ্য হলে পরের জন নির্বাচিত ঘোষিত হয়। তবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে এবং নির্বাচন কমিশন তা নিষ্পত্তি করবে।

এদিকে আদালতের রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে যে, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়টি না দেখে এর পরিণতি কী হবে, তা বলা উচিত হবে না।

এই আসনে উপনির্বাচন হতে পারে কি-না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, হতে পারে।

নতুন করে নির্বাচন হলে আসলাম চৌধুরী প্রার্থী হতে পারবেন কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অযোগ্যতা কাটিয়ে উঠলে তার নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm