লোহাগাড়ার বিভিন্ন এলাকায় চলছে ছোট-বড় পাহাড় নিধনের প্রতিযোগিতা। একটি মহল রাত-দিন পাহাড়ের মাটি বিক্রি করার ফলে বিলীন হচ্ছে ছোট-বড় পাহাড়। এতে শুধু বনের সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছে না হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। যেখানে হাতিসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বিচরণের কথা সেখানে গড়ে উঠছে বসতি। এ কারণে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে ক্ষুধার্ত হাতির পাল।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আয়োজনে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং মানুষ-হাতি সহাবস্থান নিশ্চিত করতে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি আর্ক রিসোর্ট হলরুমে এ আয়োজন করা হয়।
বক্তারা বলেন, ১৯৮১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে মোট ২৫টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে একটি হলো চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুনতি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে ১৯৮৬ সালে ৭ হাজার ৭৬৪ হেক্টর আয়তনের চুনতি অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্য এশীয় হাতির যাতায়াতের করিডোর হিসেবে এই অভয়ারণ্যোর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, নির্বিচারে গাছ কাটা, বন কেটে কৃষি জমিতে রূপান্তরের কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। এ কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে চুনতি এলাকায় এলিফ্যান্ট ওভারপাস কোনো কাজেই আসছে না।
বক্তারা আরও বলেন, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে ৪ লেন অথবা ৬ লেনে উন্নীত করার সময় হাতি ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় অভয়ারণ্য এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে হবে। একইসঙ্গে যত্রতত্র বন ও বনের গাছ নিধনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ, লোহাগাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন, কক্সবাজার উত্তর বন সংরক্ষক কর্মকর্তা রাশিক আহসান, বন কর্মকর্তা নূরজাহান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা মো. শহীদুল আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফৌজুল কবির ফজলু, জামায়াতে ইসলামী লোহাগাড়া উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আ ন ম নোমান, বিএনপি নেতা মো. জাহেদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল মাবুদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম আবু সাইদ চৌধুরী টিটু, বিএনপি নেতা মো. আবুল হাশেম, সমাজকর্মী নুরুল ইসলাম সিকদার, নুরুল আলম এবং মো. জাহাঙ্গীর।
আরও উপস্থিত ছিলেন বেলা’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মুনীরা পারভীন রুবা ও মো. ফয়সাল, লোহাগাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম সাইফুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক এম এম আহমদ মনির, অধ্যাপক পুষ্পেন চৌধুরী, সাংবাদিক সাত্তার সিকদার, তুষার হামিদ কায়সার, রায়হান সিকদার, খোকন সুশীল ও মিনহাজ উদ্দীন, শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন, মো. রাশেদ, রূপেন চৌধুরী ও মাহবুবুর রহমান।
এসএস/আলোকিত চট্টগ্রাম
