আসন্ন ঈদুল আজহায় পটিয়ায় গরু চুরি প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে থানা পুলিশ। এজন্য খামারিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে পটিয়া থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোমান আহমেদ।
সভায় বক্তারা বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে গরুর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে গরু চোর চক্র। তাই আগেভাগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ওসি জিয়াউল হক বলেন, গরু চুরি প্রতিরোধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। রাত্রিকালীন টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা যানবাহন দেখলেই দ্রুত থানায় খবর দিতে হবে। অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোমান আহমেদ বলেন, শুধু পুলিশের পক্ষে একা সবকিছু সম্ভব নয়। খামারিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তথ্য সহায়তা থাকলে অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় খামারিদের পক্ষ থেকে পটিয়া উপজেলা ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রাসেল বলেন, প্রশাসনের এই উদ্যোগ আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে খামারিরা আরও স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারবেন। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে প্রস্তুত।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পটিয়া উপজেলা ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. কফিল উদ্দীন, সহসভাপতি শফিউল আলম মনি, খামারি আবদুল মান্নান, মো. ফোরকান, মো. আমিন, মো. শহিদুল ইসলাম, ফারহানা ইয়াসমিন, মো. আলাউদ্দীন, মো. তারেক ও মো. হারুন। তাঁরা মাঠ পর্যায়ে পাহারা জোরদার, সিসিটিভি স্থাপন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন থেকে আসা খামারি প্রতিনিধি, স্থানীয় উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খামারিদের সচেতনতা বাড়াতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়। যার মধ্যে রয়েছে— রাতে খামারে পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা, পালাক্রমে পাহারা ব্যবস্থা চালু করা এবং স্থানীয়ভাবে দ্রুত যোগাযোগের জন্য একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
কেএ/আলোকিত চট্টগ্রাম


