শিক্ষকের মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল

লোহাগাড়ায় এক মাদরাসা শিক্ষকের মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল দেখা দিয়েছে। ওই শিক্ষকের নববিবাহিতা স্ত্রী বলছে, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পাওনা টাকার জন্য চাপ দেওয়া এবং ঘরে বন্দী করার কারণেই গলায় ফাঁস দিয়েছেন শিক্ষক শিব্বির আহমেদ হাসান (৩৪)। তবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন শিক্ষক শিব্বির। পারিবারিক কলহের কারণেই এই মৃত্যু।

রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে উপজেলার আলুরঘাট রোড এলাকায় টিএনটি অফিস সংলগ্ন নিশান প্লাজার পঞ্চম তলার তা’লিমুল কুরআন ওয়াসসুন্নাহ মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষক শিব্বিরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শিব্বির আহমেদ হাসান হবিগঞ্জ কদুপাড়া গ্রামের ছালেহ আহমেদের ছেলে। তার নববিবাহিত স্ত্রী শিরিন আক্তার জানান, তালিমুল কুরআন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আমার স্বামী থেকে টাকাপয়সা পাওনা ছিল। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকদিন থেকেই পাওনা টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। সর্বশেষ রোববার টাকার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। এমনকি ভবনের ছাদে নিয়ে মারধর ও পুলিশে দিবে বলে জানায়। পরে আমাদের মুঠোফোন কেড়ে নেয় এবং আমাদের রুমের দরজা বাইরে আটকে দিয়ে বন্দী করে রাখে। দুশ্চিন্তার কারণে আমাদের ঘুম আসছিল না। তবে গভীর রাতে হঠাৎ আমার ঘুম চলে আসে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখি।

এদিকে তা’লিমুল কুরআন ওয়াসসুন্নাহ মাদরাসা কর্তৃপক্ষের একজন মহিউদ্দিন জানান, মাদ্রাসার পাওনা টাকার জন্য আমরা চাপ প্রয়োগ করবো এটা স্বাভাবিক। কিন্তু শিব্বির আহমদ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিল। পারিবারিক কলহের কারণেই এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীসহ লোহাগাড়া থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

লোহাগাড়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর সীমান্ত পোদ্দার জানান, খবর পেয়ে লোহাগাড়া সদরের একটি ভবনের পঞ্চম তলা থেকে এক ব্যক্তির গলায় লুঙি প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি। কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন সেটি তদন্ত করা হচ্ছে।

যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট পেলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিব্বির আহমেদ হাসান মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পোস্টমর্টেম শেষে বিস্তারিত জানার পর যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএস/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm