চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া যাবে না

চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও মানবাধিকারকর্মী বিপ্লব পার্থ। একইসঙ্গে বন্দরে গুপ্ত অবস্থায় থাকা আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট ভাঙারও দাবি জানান তিনি।

রোববার (১৮ মে) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড উল্লেখ করে বিপ্লব পার্থ বলেন, আমরা বিদেশি বিনিয়োগের বিরুদ্ধে না। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কি? কারণ এনসিটি পরিচালনা করার সক্ষমতা আমাদের আছে। গত কয়েক বছর ভালো সফলতা দেখিয়েছে। বন্দরের ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ কার্যক্রম এই এনসিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই যেটা চালানোর সক্ষমতা আমাদের দেশের আছে সেটা বিদেশিদের কাছে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার সৌদি আরবের কোম্পানিকে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে ২২ বছরের জন্য। সৌদি কোম্পানি যে অর্থ বন্দরকে দিবে তার দ্বিগুণ অর্থ আদায় হতো যদি আমাদের দেশ সেটি পরিচালনা করতো। তাহলে সেটি থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। বিদেশি বিনিয়োগের অনেকগুলো ক্ষেত্র রয়েছে। যেমন বে টার্মিনাল আপনি বিদেশি কোম্পানির সাথে তৈরির চুক্তি করতে পারেন। আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে সেটি দিতে পারেন। তবে পরিচালনার জন্য কেন রেডিমেড টার্মিনাল দিবেন?

বিপ্লব পার্থ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের একেবারে নিকটে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দপ্তর রয়েছে, রয়েছে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি। তাহলে বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দিলে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বন্দর। এছাড়া দেশের এই পরিস্থিতিতে এ ধরণের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হতে পারে।

তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নয় বলে জানিয়েছেন। আবার হেফাজতে ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ, জামায়াতে ইসলাম, সমমনা ১২ দলনহ বিভিন্ন সংগঠন বন্দর পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানিকে  দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিবাদ জানিয়েছে।  তাহলে দেশের সব রাজনৈতিক দল, জুলাইয়ের সব স্টেকহোল্ডারদের সাথে কথা না বলে সরকার এভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে আহ্বান জানান চট্টগ্রাম বন্দরে আওয়ামী লীগ সিন্ডিকেট ভাঙতে সকলকে এক হওয়ার।

চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার আহ্বায়ক ও মানবাধিকার নেতা এম এ হাশেম রাজু বলেন, চট্টগ্রামবাসী বীরের জাতি। দেহে একবিন্দু রক্ত থাকতে বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে দিব না। চট্টগ্রাম বন্দর ও দেশ নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের ধারাবাহিক কার্যক্রম চলবে। যতদিন এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে না আসবে ততদিন আমরা রাজপথে থাকব।

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) রাজীব ধর তমাল বলেন, আমরা ন্যার্য দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। বন্দর নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। আমাদের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ডকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করবে তাদেরকে রুখে দেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল নেতা হুমায়ন কবির বলেন, আমরা ইতিমধ্যে চারদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। সরকার ও বন্দরকে বিদেশি কোম্পানির ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট তথ্য দিয়ে কুফলগুলো বর্ণনা করেছি। তারা যেন এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সেই আহ্বান থাকবে আমাদের। চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে সকল আন্দোলনে আমাদের সংহতি থাকবে।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন বেসরকারি কারা পরিদর্শক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল নেতা ডা. রাজীব বিশ্বাস, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদল নেতা মো. মহসীন,  সাইদুল ইসলাম রুবেল, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের উপদপ্তর সম্পাদক নাফিজ শাহ, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল নেতা রাজু দাশ, কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজু দাশ এবং যুবদল নেতা মো. খলিল।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm