চট্টগ্রামে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত টানা অভিযান চালিয়েছে র্যাব। অভিযানে ৬ কিশোর গ্যাংয়ের প্রধানসহ ধরা পড়েছে ৩৩ জন। এসময় তাদের কাছ থেকে দেশি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
২৭ ও ২৮ মার্চ (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালায় র্যাব-৭।
জানা যায়, অভিযানে পাঁচলাইশ থানার ফরেস্টগেট রেল ক্রসিং এলাকা থেকে রুবেল গ্রুপের গ্যাং প্রধান রুবেলসহ ৬ জন, বায়েজিদ বোস্তামী থানার পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকার জনি গ্রুপের ৫ জন, পাঁচলাইশ থানার মোহাম্মদপুর এয়ার বিল টাওয়ার এলাকার বাচা গ্রুপের প্রধান বাচা মিয়া প্রকাশ বাচা সোহেলসহ ৫ জন, পাহাড়তলী থানার ১২ কোয়ার্টার এলাকা থেকে সাজ্জাদ গ্রুপের ৭ জন, পাহাড়তলী থানার সরাইপাড়া এলাকা থেকে সাকিব গ্রুপের প্রধানসহ ৬ জন এবং ডবলমুরিং থানার পাহাড়তলী সরাইপাড়া এলাকা থেকে বিপুল গ্রুপের প্রধানসহ ৪ জনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন : চান্দগাঁওয়ে অস্ত্রসহ ধরা কিশোর গ্যাং লিডার ‘চাকমা সোহেল’
র্যাব জানায়, আটকরা পরষ্পর একে অন্যের সঙ্গে যোগসাজশে সমবেত হয়ে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে, পথচারীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ এবং মোবাইল ফোন ছিনতাই করতো তারা। আটকের সময়ও তারা বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিল। আটকদের মধ্যে ৫ জনের নামে নগরের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি এবং ডাকাতির ৮টি মামলা রয়েছে।
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার জানান, আটকরা চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিল। এছাড়া সাধারণ পথচারী, পোশাক শ্রমিক, ভ্রাম্যমাণ দোকানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিত। তাদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
তিনি বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নিয়মিত টহল এবং সাদা পোষাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাতে জনসাধারণ নির্বিঘ্নে ঈদের কেনাকাটা ও বাড়িতে যাতায়াত করতে পারে। এছাড়া ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে তাদের বাড়ি পৌঁছাতে পারে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম


