চট্টগ্রামে ‘ভয়ঙ্কর’ হচ্ছে করোনা, ফের জোড়া মৃত্যু

চট্টগ্রামে ‘ভয়ঙ্কর’ হয়ে উঠছে করোনা। করোনায় প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। একদিনের ব্যবধানে আবারও হয়েছে জোড়া মৃত্যু। এ নিয়ে মৃত্যু হলো ৬ জনের। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৪ জন। সবমিলিয়ে আক্রান্ত ৭৮ জন।

সোমবার (২৩ জুন) সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, করোনায় মারা যাওয়াদের একজন কাজী আব্দুল আওয়াল (৮৫), অন্যজন রাবেয়া খাতুন (৯৫)।আব্দুল আওয়ালের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুরে। রাবেয়া খাতুন নগরের কোতোয়ালী থানার ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার বাসিন্দা। দুজনই অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। নিউমোনিয়া পরবর্তী ফুসফুসের প্রদাহজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন এবং করোনা আক্রান্ত ছিলেন তারা।

আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে করোনায় জোড়া মৃত্যু, থামছে না ডেঙ্গুও

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২০ নমুনা পরীক্ষায় ৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ৩ জন নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা, ১ জন সাতকানিয়ার বাসিন্দা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, চট্টগ্রাম জেলার সরকারি-বেসরকারি সাতটি ল্যাবে ১২০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ১৯ নমুনা পরীক্ষায় ১ জন, শেভরনে ১৯ নমুনা পরীক্ষায় ২ জন এবং এভায়কেয়ারে ১৬ নমুনা পরীক্ষায় ১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ১৩ নমুনা পরীক্ষা, এপিক হেলথ কেয়ারে ২৮ নমুনা পরীক্ষা, ন্যাশনাল হাসপাতাল ১৬ নমুনা পরীক্ষা এবং ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ৯ নমুনা পরীক্ষায় কারো করোনা শনাক্ত হয়নি।

এদিকে করোনায় মোট আক্রান্ত ৭৮ জনের মধ্যে পুরুষ ৩৭, নারী ৩৪ এবং শিশু ১ জন। এর মধ্যে নগরের ৬৯ জন এবং উপজেলার বাসিন্দা ৯ জন। মারা যাওয়া ৬ জনের মধ্যে তিনজন নগরের ও তিনজন উপজেলার বাসিন্দা।

এর আগে গত ২১ জুন করোনায় মারা যাওয়া দুজনের একজন পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. ইরশাদ (১৪)। অন্যজন কর্ণফুলী উপজেলার বাসিন্দা ইয়াসমিন আক্তার (৪৫)। ইরশাদ কিডনি রোগে এবং ইয়াসমিন ফুসফুসে সংক্রমণ জটিলতায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি ইয়ামিনের যক্ষাও ধরা পড়ে। দুজনই চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে আবারও মৃত্যু, শনাক্তেও সমান করোনা—ডেঙ্গু

এর আগে ২০ জুন নগরের বাকলিয়ার বাসিন্দা ফজিলাতুন্নেছা (৭১) মারা যান। তিনি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন তিনিহ। কোভিড আক্রান্ত হয়ে তিনদিন আগে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

এছাড়া গত ১৬ জুন করোনায় শফিউল ইসলাম (৭৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়। তিনি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তিনি পোস্ট অপারেটিভ জটিলতা ও কিডনি ফেলিউর সমস্যা নিয়ে মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। একাধিকবার ডায়ালাইসিসও নিয়েছিলেন তিনি। করোনা শনাক্ত হওয়ার পরও তিনি স্বেচ্ছায় বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। বাড়ি যাওয়ার পর তিনি মারা যান।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm