চট্টগ্রামে দুদকের জালে পুলিশের কর্তা, ধরা খেল শিক্ষিকা স্ত্রীও

কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে এক মামলায় শিল্প পুলিশের (চট্টগ্রাম) অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবুল হাশেমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অপর মামলায় তাঁর স্ত্রী তাহেরিনা বেগমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দুদক চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ এ ওই দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা দুটি করেন চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত-২ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ।

মো. আবুল হাশেম (৬১) রাউজান থানার গশ্চি গ্রামের গুরা মিয়া সেক্রেটারি বাড়ির বাসিন্দা। ১৯৮৮ সালে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পদে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তা ২০২২ সালে চট্টগ্রামে শিল্প পুলিশের সিনিয়র এএসপি পদ থেকে অবসরে যান। তাঁর স্ত্রী তাহেরিনা বেগম (৫১) ২০০২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মেরনসান কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। তারা সপরিবারে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার পলিটেকনিক্যাল কলেজ রোডের রূপসী হাউজিংয়ে থাকেন। তবে চারতলা ভবনটি তাদের যৌথ নামে রয়েছে।

আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে দুদকের জালে কোটিপতি পুলিশ কর্মকর্তা

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে দুদকের হটলাইনে অভিযোগ দেওয়া হয় এ দম্পতির বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর তাদের সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। একই বছরের ২৭ নভেম্বর তারা পৃথক সম্পদ বিবরণী দেয় দুদকে।

সম্পদ বিবরণীতে আবুল হাশেম ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬২ টাকা সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন। এছাড়া গ্রহণযোগ্য আয়ের হিসাব থেকে ১৮ লাখ ৬০ হাজার ২৯৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সন্ধান পায় দুদক। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

অন্যদিকে স্ত্রী তাহেরিনা বেগম ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৬৬ টাকার সম্পদ গোপন করেন। তবে গ্রহণযোগ্য আয়ের বাইরে তিনি ৪৩ লাখ ৩২ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এ অভিযোগে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় মামলা করা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।

আরএস/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm