আগামী ৭ জুলাই (রোববার) জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব। এদিন আবার এইচএসসি ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। সেদিনের পরীক্ষা পেছানো এবং রথযাত্রায় একদিনের সরকারি ছুটিসহ ৯ দাবি জানিয়েছেন ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের নেতারা।
শনিবার (২৯ জুন) সকাল ১১টায় মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসকন বাংলাদেশ-এর সদস্য ও পুণ্ডরীক ধাম অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বিগত আড়াই দশক ধরে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরের মতো এবারও আগামী ৭ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ৯ দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। ৭ জুলাই দুপুর ৩টায় মন্দিরে আলোচনা শেষে প্রবর্তক মোড় থেকে রথযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাজারি গলির মুখে শেষ হবে। এছাড়া ১৫ জুলাই হাজারী গলি থেকে উল্টোযাত্রা বের হয়ে ইসকন প্রবর্তক মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে।
আরও পড়ুন : রথযাত্রা উৎসব—চট্টগ্রামজুড়ে বর্ণিল আয়োজন
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। উদ্বোধন করবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এছাড়া অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সিএমপি কমিশনার, কূটনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিবেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে জানানো অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে— পূর্ববর্তী বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঘোষিত ইশতেহারে সংখ্যালঘুদের জন্য ঘোষিতর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন, সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধে কঠোর আইন এবং দ্রুত ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার, দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষা, ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থানসমূহ সংরক্ষণ ও সেখানকার সম্পত্তি রক্ষা, প্রতিটি উপজেলায় সরকারি অনুদানে কেন্দ্রীয়ভাবে দৃষ্টিনন্দন মডেল মন্দির নির্মাণ, জাতীয় মহাতীর্থ শ্রীশ্রী চন্দ্রনাথ ধাম ও বাড়বকুণ্ড ধাম রক্ষা, সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন মঠ-মন্দির পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ, ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির নিয়ে ষড়যন্ত্র বন্ধ ও মন্দির সম্পত্তি রক্ষা করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ডিজিটাল ফর্মে জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিয়ে করা ষড়যন্ত্র বন্ধ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, হিন্দু পারিবারিক আইন নিয়ে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা, হিন্দু নেতৃবৃন্দ ও সাধু-সন্ন্যাসীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক দারুব্রহ্ম জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী, দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের উপদেষ্টা সম্পাদক ও গোলপাহাড় মহাশ্মশান কালীমন্দির পরিচালনা পরিষদের সহসভাপতি আয়ান শর্মা, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শেখর বিশ্বাস, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ আচার্য, সনাতনী জাগরণী সংঘ সভাপতি কাঞ্চন আচার্য, জাগো হিন্দু পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি রুবেল কান্তি দে, সাংবাদিক বিপ্লব পার্থ, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রণব কুমার দে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর উপকমিটির সদস্য অ্যাড. মিঠুন বিশ্বাস, মন্দিরের সদস্য সুচারু কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী, নিত্য নারায়ণ দাস ব্রহ্মচারী, পাণ্ডব গৌবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী, উজ্জ্বল নিলাম্বর দাস ব্রহ্মচারী, বিশ্বরুপ কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী, জয়ানন্দ বলদেব দাস, রাধাকান্ত দাস ব্রহ্মচারী ও সোমনাথ দাস ব্রহ্মচারী।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম


