২ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো যুবলীগ নেতা নাজিমকে

কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন হায়দার ওরফে ‘মিল্কভিটা’ নাজিমকে অবশেষে দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি সাইফুল ইসলাম আরিফ হত্যা মামলা। অপরটি বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক মামলা। এ দুটি মামলায় নাজিমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আফতাব হোসেন।

এর আগে শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্ণফুলী থানার পুলিশ চরলক্ষ্যা নিমতলা এলাকা থেকে নাজিম উদ্দিন হায়দারকে আটক করে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। পরে তাকে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়।

নাজিম উদ্দিন হায়দার কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পুলিশ জানায়, মামলায় ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৫০৬, ১১৪ এবং সংযোজিত ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে নাজিম উদ্দিন হায়দারের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ায় তাঁকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া একই মামলায় কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমদ প্রকাশ রাজাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন : অস্ত্র-গুলি নিয়ে ২ ডাকাত ধরা খেল ডুলাহাজারায়

মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক এমপি এমএ লতিফ, জানে আলম দোভাষ, মহিউদ্দিন বাচ্চু, এমএ সালাম ও দিদারুল আলম দিদার।

আসামি কাউন্সিলরদের মধ্যে রয়েছেন চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনি, আব্দুর সবুর লিটন, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. জাবেদ, নাজমুল হক ডিউক, ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, মো. ইলিয়াছ, মো. মোরশেদ আলী, হাসান মুরাদ বিপ্লব, পুলক খাস্তগির, জহুর লাল হাজারী, নুর মোস্তফা টিনু, শৈবাল দাশ সুমন, আবু হাসনাত বেলাল, জিয়াউল হক সুমন, কবির আহমদ মানিক, বিজয় কুমার কৃষাণ, এইচএম সোহেল, জহুরুল আলম জসিম, আব্দুল কাদের ও নজরুল ইসলাম বাহাদুর।

আসামি আওয়ামী লীগ নেতারা হলেন— ওমর গণি এমইএস কলেজের সাবেক ভিপি আরশেদুল আলম বাচ্চু, আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুম, যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এমআর আজিম, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান আহমদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজম রনি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক সাইফুল আলম লিমন, মহানগর যুবলীগ সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু, সহসভাপতি দেবাশীষ পাল দেবু, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ারুল আলম চৌধুরী নোবেল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি সাজিদ দাশ ও ইসলামিয়া কলেজের সাবেক ভিপি খলিলুর রহমান নাহিদ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হাজারো ছাত্র-জনতা নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান নিলে সশস্ত্র হামলাকারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় লাঠি, রড, ইট-পাটকেল এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আঘাত করে। এতে সাইফুল ইসলাম আরিফের পাশাপাশি মাহমুদুল হাসান (১৮), মো. রবিউল (১৯), মো. শামীম (২৩), আব্দুল আমানসহ (২০) বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

পরে আহত আরিফকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মারা যান তিনি।

পরে এ ঘটনায় ৩৫১ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন মঈন উদ্দীন রাজীব (৪০)। পরে এ মামলায় ৩০২ ধারা সংযোজিত হয়।

জেজে/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm