পদ ছোট, ক্ষমতা বড়

পলাশ বড়ুয়া, আবাসন অধিদপ্তরের একজন নৈশ প্রহরী। পদ ছোট হলেও ক্ষমতায় কিন্তু তিনি অনেক বড়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর রয়েছে দারুণ সখ্যতা।
পলাশের আপন বড় ভাই রাজীব বড়ুয়া একই অফিসের উচ্চমান সহকারী। পলাশের দাপটের নেপথ্যেও রয়েছে বড় ভাই রাজীবের প্রভাব।
সরকারি বাসা বরাদ্দ পেতে হলে ব্যবস্থা করে দিবেন পলাশ। গ্রেড অনুযায়ী বাসা পেতে হলে দ্বারস্থ হতে হবে পলাশের। তবে এজন্য মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হবে তাঁকে। কারণ টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না পলাশ।

সরেজমিন আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের বিপরীতে চট্টগ্রাম আবাসন অধিদপ্তর ঘুরে মিলেছে এমন তথ্য। সাক্ষাতেও পলাশ দেখিয়ে দিলেন নিজের ক্ষমতা!

পরিচয় গোপন রেখে চট্টগ্রাম আবাসন অধিদপ্তরে ঢুকতেই দেখা মেলে পলাশ বড়ুয়ার। এসময় গালভরা হাসিতে বলে উঠেন, বাসা লাগবে? হ্যাঁ বলতেই নিয়ে যান বড় একটি কক্ষে।

এরপর তাঁর কাছে জানতে চাই, বাসা বরাদ্দ পেতে করণীয় কী? তিনি বলেন, গ্রেড অনুযায়ী বাসা পেতে হলে আগে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে ১১ হাজার টাকা। এত টাকা কিসের? প্রশ্ন করতেই উত্তরে বললেন, এক হাজার টাকা ফরম বাবদ। আর বাকি ১০ হাজার টাকা অফিসিয়াল খরচ। অফিসিয়াল কী খরচ, জানতে চাইলে বলেন, জেলা প্রশাসনের অফিসে ও আমাদের অফিসে খরচ দিতে হবে। দুমাসের মধ্যে মিটিং হবে। তখন বাসা বরাদ্দ করিয়ে দেব।

আরও পড়ুন : এতকিছুর পরও এতটুকু কমেনি সেই ৪ সার্ভেয়ারের ক্ষমতা

পলাশ বড়ুয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কথোপকথনের ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে প্রতিবেদকের কাছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আবাসন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মরত বলেন, পলাশ বড়ুয়া নৈশ প্রহরী হলেও তাঁর বড় ভাইয়ের ক্ষমতাবলে অফিসের তেমন কাউকে পাত্তাই দেন না। সরকারি কর্মচারীরা বাসা বরাদ্দের আবেদন করতে অফিসে গেলেই আগ বাড়িয়ে কথা বলেন পলাশ। এরপর একটি কক্ষে নিয়ে শুরু করেন দেন-দরবার। ঊর্ধ্বতনরা এসব দেখেও না দেখার ভান করেন। এটি যেন তাঁর ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরে সাংবাদিক পরিচয়ে যোগযোগ করা হয় পলাশ বড়ুয়ার মুঠোফোনে। তিনি বলেন, আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি আর কখনো কারো কাছ থেকে টাকা নেব না। এটা আমার ডিডি ম্যাডামের কানে গেলে চাকরির সমস্যা হবে। এবারের মতো ছোট ভাই মনে করে ক্ষমা করে দেন।

অপরদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আবাসিক অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী রাজীব বড়ুয়া বলেন, আমার ছোট ভাই ভুল করে ফেলছে। প্রতিবেদককে নিউজ না করার অনুরোধ করেন রাজীব।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম আবাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুনতাসির জাহান বলেন, এসব বিষয় আমার জানা নেই। কেউ যদি আমার অগোচরে এ ধরনের অপকর্ম করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm