চট্টগ্রামে ৪৫০ টাকায় কৃষি অধিদপ্তরের ৫ পণ্য—ব্যাপক সাড়া, আক্ষেপও

বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস অবস্থা ক্রেতাদের। এবার স্বস্তি ফেরাতে উদ্যোগে নিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। চট্টগ্রামের নগরের খোলা বাজারে শুরু করেছে ন্যায্যমূল্যে সবজি, ডিম ও পেঁয়াজ বিক্রি। নগরের ৫টি স্পটে ৪৫০ টাকার প্যাকেজে বিক্রি করা হচ্ছে ৫ পণ্য। প্রথমদিনেই সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলছে।

এদিকে প্যাকেজে বাজারের চেয়ে কম দামে পণ্য কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারাও। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি তাদের।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আজ (২২ অক্টোবর) থেকে নগরের ৫ স্পট চকবাজার, দেওয়ানহাট, ফিরোজশাহ, আকবরশাহ ও বহদ্দারহাট এলাকায় বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতি স্পটে প্রতিদিন ২০০ জনকে এসব পণ্য দেওয়া হবে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।

৪৫০ টাকার প্যাকেজে দেওয়া হচ্ছে ১ ডজন ডিম, ৪ কেজি আলু, ২ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি পেঁপে ও ১ কেজি করলা। এর মধ্যে এক ডজন ডিম ১৩০ টাকা, আলু এক কেজি ৩০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, করলা ৪০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৭০ টাক।

আজ সকালে নগরের চকবাজার এলাকায় কৃষিপণ্য ওএমএস কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাসুদ করিম। এতে সহযোগিতা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়ানোর কষ্ট ভুলিয়ে দিচ্ছে চিনি—খেজুর

এদিকে সরেজমিন দেখা যায়, চকবাজার কাঁচাবাজারের বিপরীতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছে বড় একটি ট্রাক। গাড়ির সামনে লাগানো ব্যানারে লেখা রয়েছে পণ্যসহ দাম। পেছনে পণ্য নিতে রোদ উপেক্ষা করে দাঁড়ানো নারী-পুরুষ। দুজন কৃষি কর্মকর্তা সাদা পৃষ্ঠায় নাম, ঠিকানা, স্বাক্ষর ও টাকা নিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন ৫ পণ্য। পণ্যগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছেন আনসার সদস্যরা। তবে ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় সব পণ্য বিক্রি হয়ে যায়। ফলে লাইনে দাঁড়ানো অনেককে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে।

এদিকে বাজার থেকে কম দামে পণ্য কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারা। আবার লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য না পেয়ে আক্ষেপ ছিল অনেকের।

লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কেনেন গৃহিণী বনলতা দে। এসময় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫৫-৬০ টাকায় আর এখান থেকে নিলাম ৩০ টাকায়। তাও ৪ কেজি। এরকম অন্যান্য পণ্যগুলোতে ২০-৩০ টাকা করে প্রায় ১০০ টাকার উপরে সাশ্রয় হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

লাইনে দাঁড়ানো মো. রাজ্জাক নামে একজন বলেন, বাজারে সবজি, ডিমসহ সবকিছুর দাম বাড়তি। এখানে ট্রাকে করে কম দামে এসব পণ্য বিক্রির খবর শুনে ছুটে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছে। ৪৫০ টাকায় ৫টি পণ্য দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ঘণ্টাব্যাপী লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য না পাওয়া মো. আকতার বলেন, শুনেছি মাত্র ২০০ জনকে পণ্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ৫০০ জনের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করলে আমাদের মতো গরিব মানুষের উপকার হতো। দ্রব্যমূল্যের ঊধ্বগতির এ সময়ে এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

এদিকে পণ্য বিক্রি শেষ হয়ে যাওয়ায় আকতারের মতো জোৎস্না বেগমকেও ফিরতে হয়েছে খালি হাতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পণ্য বিক্রির দায়িত্বে থাকা সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শাহরিয়ার আকুঞ্জি আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আজ সকাল থেকে চকবাজার, দেওয়ানহাট, ফিরোজশাহ, আকবরশাহ ও বহদ্দারহাট এলাকায় আমরা ৪৫০ টাকার প্যাকেজে পণ্য বিক্রি শুরু করেছি। পণ্যের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে ১ ডজন ডিম, ৪ কেজি আলু, ২ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি পেঁপে ও ১ কেজি করলা। প্রতিদিন ২০০ জনকে এসব পণ্য দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রথমদিন আমরা ভালোই সাড়া পেয়েছি। তবে বরাদ্দের চেয়ে চাহিদা বেশি থাকায় অনেককেই দিতে পারিনি। আমাদের এ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm