করোনা—’সীমিত’ পরিসরে লকডাউন, ‘কড়া’ নজরে চট্টগ্রাম

দেশে করোনা সংক্রমণের পর সাধারণ ছুটি থেকে লকডাউন, অনেক বিধিনিষেধই দেখেছে চট্টগ্রাম। তবে ঘোষণার ‘কড়াকড়ি’ বাস্তবে নজরে এসেছে কম। যেকারণে প্রজ্ঞাপনের ‘কঠোর’ নির্দেশনা রাজপথে ‘ঢিলেঢালা’য় রূপ নিতে সময় লাগেনি।

সোমবার (২৮ জুন) চট্টগ্রামে নজরে পড়ল কিছুটা ব্যতিক্রমী চিত্র। এবার তিনদিনের জন্য ‘সীমিত’ পরিসরের লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রথমদিনের লকডাউন ছিল বেশ ‘কঠোর’।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, অফিস-আদালত খোলা রেখেই লকডাউন বাস্তবায়ন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সে পরীক্ষায় প্রথম দিনটা ভালোই গেছে চট্টগ্রামের স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

অধিকাংশ মার্কেট-শপিংমল ছিল বন্ধ
নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অধিকাংশ মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ পাওয়া গেছে। জুবিলী রোড এলাকায় হার্ডওয়্যার সামগ্রীর মার্কেটগুলোতে কয়েকটি দোকান খোলা দেখা গেলেও মূল প্রবেশপথের কলাপসিবল গেইট ছিল তালা দেওয়া। রাস্তার পাশের অধিকাংশ দোকানের শাটারও নামানো ছিল।

এনায়েত বাজার ও লাভ লেইন এলাকায় স্যানিটারি সামগ্রীর কিছু দোকানের শাটার অর্ধেকটা নামানো অবস্থায় বেচাকেনা চলতে দেখা যায়। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে একে একে বন্ধ হতে থাকে সেই দোকানগুলোও।

দেওয়ান বাজার এলাকায় বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও দোকান বন্ধ দেখা গেছে। সাইবার ক্যাফেসহ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে শাটার অর্ধেক বন্ধ করে চলছিল ব্যবসা।

প্রসঙ্গত, সরকারি নির্দেশনায় মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও দোকানপাট খোলা-বন্ধের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তারপরও এদিন নগরের অনেক এলাকাতেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপা উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে প্রশাসনের চাপে, অনেকে নিজ উদ্যোগেই বন্ধ রেখেছেন দোকান-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

বন্ধ গণপরিবহন, অটোরিকশাও
সাধারণ ছুটি কিংবা লকডাউন, দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের রাজপথে বরাবরই চাকা ঘুরেছে গণপরিবহনের। রাস্তায় দাপটে চলেছে সিএনজি অটোরিকশাও।

সোমবার চট্টগ্রামের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। সকালের দিকে কিছু অটোরিকশা ও গণপরিবহনের দেখা মিললেও দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়।
এনায়েত বাজারের একটি দোকান থেকে সেনিটারি সামগ্রী কেনেন বাকলিয়ার মু. জুনাইদ। কিন্তু জিনিসপত্র নিয়ে দোকান থেকে বের হয়েই পড়েন ‘বিপদে’। এনায়েত বাজার মোড়ের মতো ব্যস্ত রাস্তায় দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও একটি অটোরিকশার দেখা পাননি তিনি। শেষে কাঁচ ও সিরামিকের জিনিসপত্রসহ একরকম ঝুঁকি নিয়েই রিকশায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
নগরের দিদার মার্কেট এলাকায় গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন অনেকে। কিন্তু আগের বিধিনিষেধের দিনগুলোর তুলনায় আলাদা এদিনে গণপরিবহনের দেখা না পেয়ে কেউ হেঁটে, কেউ বাড়তি ভাড়া গুণে রিকশায় গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।

হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভিন্ন চিত্র
নগরের খাবারের দোকানগুলোতেও এদিন চিত্রটা ছিল বেশ ব্যতিক্রম। কিছু খাবারের হোটেলে ক্রেতা বসিয়ে খাওয়াতে দেখা গেলেও তা অন্যান্যবারের তুলনায় ছিল অনেক কম।

তিনপুলের মাথা এলাকার যে কুলিং কর্নারের সামনের ফুটপাতে অন্যসময় ক্রেতার ভিড় লেগে থাকত, সেখানে আজ ‘টেকওয়ে’ নিয়মে বিক্রি করতে দেখা গেছে। মানুষ খাবার কিনে প্যাকেট নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। দোকানের সামনেও ছিল না পরিচিত ভিড়।

প্রশাসনের তৎপরতা
সাম্প্রতিক অতীতে বিধিনিষেধ আরোপের পর প্রশাসনকে বেশ ঢিলেঢালা অবস্থায় দেখা গেলেও সোমবারের চিত্রটা ছিল কিছুটা ভিন্ন। নগরের প্রবেশপথগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বেশ তৎপর ছিল।

সিটি গেইট এলাকায় বসানো হয় চেকপোস্ট। চেকপোস্টে গাড়ি থামিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করতে দেখা গেছে।

নগরের বেশকিছু স্থানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নানা অনিয়মের জন্য জরিমানা করা হয় বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এদিন থেকে যুক্ত হবে আরও কিছু বিধিনিষেধ। প্রাথমিকভাবে ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’র জন্য সাতদিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সরকার।

জেডএইচ

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm