চিন্ময় ব্রহ্মচারী অসুস্থ, ৫ মামলায় জামিন নামঞ্জুর

চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যাসহ পাঁচ মামলায় বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুর একটার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এ বিষয়ে আইনজীবী অপূর্ব কুমার বলেন, চিকিৎসার জন্য চিন্ময় ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আাদালত জামিন নামঞ্জুর করে আইনজীবী আলিফ হত্যাসহ আরো পাঁচটি মামলায় মামলায় তাঁকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। অথচ এসব ঘটনার সময় তিনি জেলে ছিলেন। তাই তিনি এসব ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

আরও পড়ুন : আরও জটিল হয়ে গেল চিন্ময় ব্রহ্মচারীর ‘জামিন’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চিন্ময় ব্রহ্মচারী লিভার সিরোসিসসহ জটিল রোগে আক্রান্ত। তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিনের প্রয়োজন ছিল।

এদিকে গত ৫ মে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন। একই আদালত ৬ মে আরও ৪ মামলায় চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত ২ জানুয়ারি চিন্ময় ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন খারিজের আদেশ দেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ। এরপর ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টে জামিন চান চিন্ময় ব্রহ্মচারী। ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জামিন প্রশ্নে রুল দেন হাইকোর্ট। বিষয়টি একই বেঞ্চের গত ১৯ মার্চের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৩ এপ্রিল বিষয়টি শুনানির জন্য আদালতের কার্যতালিকায় ৪৩ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। এসময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এক সপ্তাহ সময় চাওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

৩০ এপ্রিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ বলে আদেশ দেন। ওইদিনই চেম্বার আদালত প্রথমে জামিন স্থগিত করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে ৪ মে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। ৪ মে শুনানি শেষে জামিন স্থগিতের আদেশ দেন চেম্বার আদালত।

এর আগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার চিন্ময় ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর হওয়া নিয়ে গত বছরের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুন করা হয়। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে খুনের ঘটনায় তারা বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাত আরো ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়।

আরও পড়ুন : রাষ্ট্রদ্রোহ ও খুনের মামলায় কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে

পাশাপাশি আলিফের ভাই খানে আলম বাদী হয়ে যানবাহন ভাংচুর ও জনসাধারণের ওপর হামলার ঘটনায় ১১৬ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেন নগরের কোতোয়ালি থানায়।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে গত বছরের ২৬ নভেম্বর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও আইনজীবী হত্যার প্রতিবাদে কর্মবিরতির ডাক দিলে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে আদালত ৩ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য রাখেন। সেদিন চিন্ময়ের কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আদালত শুনানির জন্য ২ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য রাখেন। ওইদিন জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়।

প্রসঙ্গত, গেল বছরের ৩১ অক্টোবর নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm