আরও জটিল হয়ে গেল চিন্ময় ব্রহ্মচারীর ‘জামিন’

আরও জটিল হয়ে গেল কারাবন্দী বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় ব্রহ্মচারীর জামিন। চট্টগ্রামে গতকাল (৫ মে) খুনের মামলায় গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানোর পর আজ (৬ মে) নাশকতার আরও চার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আবার হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আজ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক। আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। চিন্ময় ব্রহ্মচারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, এম কে রহমান ও অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক জানান, জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) না করা পর্যন্ত চিন্ময় ব্রহ্মচারীর জামিন স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল (৫ মে) আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন এ আদেশ দেন। একই আদালত আজ (৬ মে) আরও ৪ মামলায় চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত ২ জানুয়ারি চিন্ময়ের জামিন আবেদন খারিজের আদেশ দেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ। এরপর ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টে জামিন চান চিন্ময় দাস। ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জামিন প্রশ্নে রুল দেন হাইকোর্ট। বিষয়টি একই বেঞ্চের গত ১৯ মার্চের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৩ এপ্রিল বিষয়টি শুনানির জন্য আদালতের কার্যতালিকায় ৪৩ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। এসময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এক সপ্তাহ সময় চাওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

৩০ এপ্রিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ বলে আদেশ দেন। ওইদিনই চেম্বার আদালত প্রথমে জামিন স্থগিত করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে ৪ মে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। আজ শুনানি শেষে জামিন স্থগিতের আদেশ দেন চেম্বার আদালত।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর হওয়া নিয়ে গত বছরের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুন করা হয়। এছাড়া আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে খুনের ঘটনায় তারা বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাত আরো ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়।

পাশাপাশি আলিফের ভাই খানে আলম বাদী হয়ে যানবাহন ভাংচুর ও জনসাধারণের ওপর হামলার ঘটনায় ১১৬ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেন নগরের কোতোয়ালি থানায়।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গত বছরের ২৬ নভেম্বর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও আইনজীবী হত্যার প্রতিবাদে কর্মবিরতির ডাক দিলে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে আদালত ৩ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য রাখেন। সেদিন চিন্ময়ের কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আদালত শুনানির জন্য ২ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য রাখেন। ওইদিন জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়।

প্রসঙ্গত, গেল বছরের ৩১ অক্টোবর নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm