চট্টগ্রামে আলোচিত জোড়া খুন মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ‘ছোট সাজ্জাদের’ স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে (ডিটেনশন) ৩০ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১১ মে) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালত বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২(এফ) ও ৩(১) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে তাঁকে আটক রাখা হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মাসুদ হাসান জুয়েল।
তামান্না সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের গ্রেপ্তারের পর তিনি নিজের ফেসবুক পেজে এসে বলেছিলেন— ‘কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করেও আমি জামিন করাতে পারি। এখন পালিয়ে থাকার পালা তোমাদের।’ এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে তিনি মুছে ফেলেন।
শনিবার (১০ মে) রাতে নগরের বহদ্দারহাট বারৈয়পাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে তামান্নাকে গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানা পুলিশ। তবে তাঁর আইনজীবী জামিন সংক্রান্ত কাগজ দেখানোর পর প্রাথমিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পরে বায়েজিদ থানার ডিটেনশন আদেশের ভিত্তিতে তাঁকে ফের আটক করা হয়।
তামান্না চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানাধীন মাঝিরঘাট রোডের বাসিন্দা মো. শফি মাঝির মেয়ে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জোড়া খুন মামলায় উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাকলিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, তামান্না অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে তিনি আত্মসমর্পণ না করায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। পরদিন তাঁর আইনজীবী নিম্ন আদালতের একটি নির্দেশনা দেখান, যাতে বলা হয় ১৫ মে জামিন শুনানির আগ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার না করতে। সে অনুযায়ী আমরা তাঁকে ছেড়ে দিই। তবে অন্য থানার ডিটেনশন থাকায় তাঁকে হস্তান্তর করা হয়।
চট্টগ্রাম কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার, সিএমপি উত্তর জোনের ডিসি এবং সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিন্তু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
যোগাযোগ করা হলে বায়েজিদ জোনের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার মো. আরিফ হোসেন বলেন, তামান্নার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া খুনের মামলায় তিনি উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে জামিনে আছেন। তাই মামলাটিতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় আটকাদেশ রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ রাতে বাকলিয়া এলাকায় সাজ্জাদের অনুসারীদের গুলিতে দুই ব্যক্তি নিহত হন। ওই ঘটনায় নিহত এক যুবকের মা বাদী হয়ে সাজ্জাদ, তাঁর স্ত্রী তামান্নাসহ সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় একজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন।
এর আগে ঢাকায় আলোচিত মডেল ও মিস আর্থ বাংলাদেশ ২০২০ বিজয়ী মেঘনা আলমকেও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩০ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
জেজে/আলোকিত চট্টগ্রাম
