চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছেই, রেড জোনে ৭ স্পট

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছেই। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যায় সেপ্টেম্বর মাসের চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে চলতি অক্টোবরে। এ অবস্থায় রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে নগরের ৭ থানা। তবে সেপ্টেম্বর মাসের চেয়ে অক্টোবরে মৃত্যু কিছুটা কমেছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৮৮ জন। আর সেপ্টেম্বরজুড়ে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৯০৭ জন।

এর আগে আগস্টে ২০২ জন, জুলাইয়ে ১৯৮ জন, জুনে ৪১ জন, মে’তে ১৭ জন, এপ্রিলে ১৮ জন, মার্চে ২৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৫ জন এবং জানুয়ারিতে ১৯ জনের শরীরে ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

আরও পড়ুন : ডেচট্টগ্রামে ডেঙ্গু—‘ভয়ঙ্কর’ সেপ্টেম্বরে মৃত্যুতে রেকর্ড, আক্রান্তেও

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টে মোট ৫ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই মৃত্যু হয় ১১ জনের! তবে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫ জন। সবমিলিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের।

অক্টোবরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা গত মাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৫ জন। আক্রান্তে নারীর চেয়ে বেশি পুরুষ। তবে মৃত্যু পুরুষের চেয়ে বেশি নারীর। আবার উপজেলার চেয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেশি নগরে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৯৩ জন জন। এদের মধ্যে ১ হাজার ৬১১ জন নগরের এবং ৯৮২ জন উপজেলার বাসিন্দা। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হওয়া ২১ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ১২ জন নারী এবং ৩ জন শিশু।

এদিকে ১৫ উপজেলায় ৯৮২ জন আক্রান্তের মধ্যে লোহাগাড়ায় ১৯২ জন, সাতকানিয়ায় ১২৭ জন, বাঁশখালীতে ৬৮ জন, আনোয়ারায় ৩৭ জন, চন্দনাইশে ৬৬ জন, পটিয়ায় ৬৩ জন, বোয়ালখালীতে ৪১ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ২৯ জন, রাউজানে ৯২ জন, ফটিকছড়িতে ৩৬ জন, হাটহাজারীতে ৪৩ জন, সীতাকুণ্ডে ১০৮ জন, মিরসরাইয়ে ২৩ জন, সন্দ্বীপে ৯ জন এবং কর্ণফুলী উপজেলায় ৪৮ জন।

অন্যদিকে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যায় নগরের ৭ এলাকাকে রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক মাসে কোতোয়ালী এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০৬ জন, বাকলিয়ায় ১০৩, বায়েজিদে ৭৬, বন্দরে ৩৩, পাহাড়তলীতে ৩২, খুলশিতে ২৩ এবং চকবাজারে ২০ জন। এসব স্পট রয়েছে রেড জোনের তালিকায়। এছাড়া পাঁচলাইশে ১৯, হালিশহরে ১৮, পতেঙ্গায় ১৫, চান্দগাঁওয়ে ১১ এবং ডবলমুরিংয়ে ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এসব এলাকা রয়েছে হলুদ জোনে।

আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে ডেঙ্গু—রেড জোনে ৭ এলাকা

লালখানবাজার ৯, আগ্রাবাদ ৭, মুরাদপুর ৬, আকবরশাহ ৫, কাট্টলী ৫ জন, নাসিরাবাদ ৪ এবং দামপাড়ায় ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এসব এলাকাকে রাখা হয়েছে নীল জোনে। এছাড়া অক্সিজেন ৩, সিটিগেইট ২, চৌমুহনী ২ এবং সদরঘাটে ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এসব এলাকা রয়েছে সবুজ জোনে।

প্রতিবেদন আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরে সেপ্টেম্বর মাসে মোট ২৩ এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫২৫। এদের মধ্যে ৭৯ জন চট্টগ্রাম জেলার বাইরে। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে। চলতি মাসে গতমাসের তুলনায় রোগী বেড়েছে। তবে মৃত্যুহার কিছুটা কমেছে। আমরা ইতিমধ্যে জরিপ শেষে ৭ এলাকাকে রেড জোনসহ অন্যান্য এলাকাকে নীল, হলুদ, সবুজ জোনে ভাগ করেছি। জরিপটি  সিটি করপোরেশনে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করে সেভাবে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে সচেতন থাকতে হবে।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm