এরশাদ শিকদার নদীতে লুকিয়ে রাখত লাশ, কর্ণফুলী নদীতে বাল্কহেড লুকিয়ে রাখে পাপ্পী

শতাব্দীর `ভয়ঙ্কর’ খুনি এরশাদ শিকদারের নাম শুনলে এখনও ভয়ে আঁতকে উঠেন খুলনার মানুষ। কত মানুষকে যে খুন করা হয়েছে তার সাক্ষী ভৈরব নদী। যদি ভৈরব নদী মুখে বলতে পারত তাহলে বিশ্ববাসী জানতে পারত এরশাদ সিকদারের আরও অনেক নৃশংসতার কথা।

চট্টগ্রামেও মিলেছে একজনের সন্ধান। না লাশ নয়, তিনি নদীতে লুকিয়ে রাখেন প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা মানুষের সম্পদ। তিনি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি পরিচয়ধারী মনছুর আলম পাপ্পী। তবে আদালতের নির্দেশের পর এসব সম্পদ উদ্ধারে নেমেছে পুলিশ। আর নদীর তলদেশ থেকে এগুলো উদ্ধার করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। গত দুদিন ধরে চলছে টানা অভিযান। তবে কোটি টাকার সেই সম্পদ উদ্ধার করা এখনও সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: পাপ্পীর সাম্রাজ্যে পুলিশের হানা, চলছে গায়ের জোরে আটকে রাখা যন্ত্রপাতি উদ্ধার অভিযান

জানা গেছে, সাবেক মেরিন কর্তা ক্যাপ্টেন কেএম হাফিজুর রহমান অবসরের পর পিএসপি মেরিন সার্ভিসেস নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করেন। যার মাধ্যমে বেশকিছু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নিজের পরিবারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখেন। সেই প্রতিষ্ঠানের এমবি আফিয়া ইবনাত ও এমবি বন্নি (১২ ইঞ্চি আনলোডিং এবং লোডিং ড্রেজার) এমবি ওয়াস্তাবির-২ ও এমবি নিলয় ফায়াজ নামে দুটি বাল্কহেড ড্রেজারসহ আনুসাঙ্গিক ইক্যুইপমেন্ট ভাড়ার চুক্তি হয় পাপ্পীর সঙ্গে। কিন্তু সেসব যন্ত্রাংশ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অযত্নে ফেলে রাখেন তিনি। শুধু তাই নয়, কর্ণফুলী নদীতে ডুবিয়ে রাখেন দুটি বাল্কহেডও।

চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী, দৈনিক ২৫ হাজার ঘনফুট বালি সরবরাহ করা হবে মর্মে প্রতি ঘনফুট বালির জন্য ২ টাকা ৩০ পয়সা ভাড়া মূল্য নির্ধারণ করা হয় এসব যন্ত্রাংশের। যা প্রতি মাসে ১৭ লাখ টাকার বেশি।

চুক্তি অনুযায়ী পূর্ব পরিচয়ের কারণে জামানত ছাড়াই এসব ইক্যুইপমেন্ট ভাড়ায় লাগান সাবেক এই মেরিন কর্তা। আট লাখ টাকা যন্ত্রাংশ মেরামত বাবদ পরবর্তী সময়ে খরচ সমন্বয় করার কথা। এরপর একই বছরের ৭ অক্টোবর এমভি মরিয়ম নামে আরেকটি আনলোডিং ড্রেজার পাইপসহ ১ টাকা মূল্যে ভাড়ার চুক্তি হয়। সর্বমোট ১২ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের ৪০ ফুটের ৯৮টি পাইপ পাপ্পীকে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন কেএম হাফিজুর রহমান আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, এক মাস পর থেকে এসব ইক্যুইপমেন্টের কাজ শুরু করার কথা থাকলেও তিনি চার মাস পর কাজ শুরু করেন। তাও দুটি ইক্যুইপমেন্ট ব্যবহার করে দৈনিক টাকা তুলে নিয়ে যেতেন। আমাদের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও তিনি কোনো টাকা পরিশোধ করেননি।

তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় গত ১০ মাসে আমার প্রতিষ্ঠানের ২ কোটি ৬২ লাখ ২৪ হাজার ২৮০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। গত ৯ মে পাঁচটি ইক্যুইপমেন্টের মধ্যে তিনটি ফেরত চেয়ে নোটিশ পাঠায়। কিন্তু তিনি এর কোনো সদুত্তর দেননি। এছাড়া ব্যবসায়িক বৈঠকে বসলে পাপ্পী তার সহচরদের বলেন, ‘ঢাকা যাওয়ার জন্য অস্ত্র, গোলাবারুদ গাড়িতে লোড কর। এসব বলে তিনি ভয় দেখানোর চেষ্টা করতেন।

আরও পড়ুন: সেই পাপ্পীকে ধরতে আদালতের নির্দেশ, উদ্ধার করতে হবে কোটি টাকার যন্ত্রাংশও

পরে আদালতে মামলা করেন ক্যাপ্টেন হাফিজ। বাকলিয়া থানার তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত এসব যন্ত্রাংশ ক্রোক করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে পাপ্পীকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন।

এরপর গত বুধবার দিনভর উদ্ধার অভিযান চালায় বাকলিয়া থানা পুলিশ। সহায়তা করে বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও থানা পুলিশ। তবে দুদিন পরও সব যন্ত্রাংশ উদ্ধার সম্ভব হয়নি। কারণ পাপ্পী এসব যন্ত্রাংশ এমন কায়দায় নদীতে ডুবিয়ে রেখেছেন যা উদ্ধার করা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার— জানালেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক একেএম জালাল উদ্দিন।

আজও (বৃহস্পতিবার) দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালানো হয় পাপ্পীর আস্তানায়।

আরএস/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm