মিরসরাইয়ে নাপিত্তাছড়া ঝরনার ওপর থেকে পড়ে নিখোঁজ দুজনের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে শনাক্ত করা হয়েছে গতকাল (১৯ জুন) উদ্ধার হওয়া যুবকের পরিচয়। ওই যুবকের নাম ইশতিয়াকুর রহমান প্রান্ত (২২)।
রোববার (১৯ জুন) রাত ৮টায় ইউনিয়নের নয়দুয়ারিয়া নাপিত্তাছড়া ঝরনার পাহাড় থেকে প্রান্তের মরদেহ উদ্ধার করে মিরসরাই থানা পুলিশ। আজ (সোমবার) ভোরে নিহতের বাবা জাকারিয়া ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে প্রথমে ইশতিয়াকুর রহমানের সহপাঠী মেহেদী হাসান মিরসরাই থানায় ফোন করে বন্ধুর লাশ শনাক্ত করেন। আজ (২০ জুন) সকালে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
এদিকে আজ (সোমবার) বিকেল সাড়ে ৪টায় মাসুদ আহম্মেদ তানবীরের (২২) লাশ খইয়াছরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদিয়া মাসিমার তালুক খাল থেকে উদ্ধার করা হয়ে। তবে এখনও নিখোঁজ তার ছোট ভাই তৌফিক আহম্মেদ তারেক (২০) ।
আরও পড়ুন: ঝরনা থেকে পড়ে লাশ যুবক, সঙ্গীরা কোথায় কেউ জানে না
আজ (সোমবার) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মিরসরাই ও আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ তৌফিকের খোঁজে ঝরনা কূপ ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিল।
জানা গেছে, নিহত ইশতিয়াকুর রহমান প্রান্ত চট্টগ্রাম ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে। মাসুদ আহম্মেদ তানবীর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রামের (ইউএসটিসি) স্নাতকের ছাত্র। নিখোঁজ তৌফিক আহম্মেদ তারেক চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে।
ইশতিয়াকের খালাতো ভাই মো. ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ইশতিয়াক মেধাবী ছাত্র ছিল। সে এইচএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে। এবার বিএমএতে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে এর আগেও ঝরনায় গিয়েছিল। ঝরনায় যাওয়ার রাস্তা নেই, নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। ভালো ব্যবস্থা থাকলে হয়ত এ দুর্ঘটনা ঘটত না।
যোগাযোগ করা হলে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ঘটনার দিন ইশতিয়াকুর রহমান প্রান্ত (২২) ও আপন দুভাই একসঙ্গে ঝরনার মুখে একটি খাবারের দোকানে এসে তাদের তাদের মালামালসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র রেখে দুপুরের খাবারের অর্ডার দেয়। ইশতিয়াকুর রহমান প্রান্ত ও মাসুদ আহম্মেদ তানবীরের লাশ উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে তৌফিক আহম্মেদ তারেক। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
যোগাযোগ করা হলে ঝরনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিএসআর ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী আনিসুর রহমান বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৪টি ঝরনা ও লেক ইজারা নিয়েছি। তবে পর্যটকদের সতর্ক করার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।
আরও পড়ুন: গোধূলিবেলায় মাঝ হ্রদে আটকে গেল বোট, পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করল ৮ পর্যটককে
মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ইমাম হোসেন পাটোয়ারি বলেন, ঝরনার নিচে ১৫০ ফুট গভীরে একটি কূপ রয়েছে। আমাদের চেষ্টার পর চট্টগ্রাম আগ্রাবাদের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহায়তা চেয়েছি। তাদের একটি টিম উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, এখানে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ইজারাদাতার এবং ইজারা গ্রহীতার। পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করে ইজারা দেওয়া উচিত হয়নি। আমরা খুব শিগগির মিটিং করে পর্যটন স্পটগুলো উপজেলা পরিষদের আওতায় নিয়ে আসব।
আজিজ/আরবি


