লালখানবাজারের ‘নারকেল বাড়ি’

লালখানবাজারের মতিঝর্ণা এলাকার সাত নম্বর গলি। চলতিপথে নজর কাড়ে টিনের ছাউনির একটি বাড়ি। বাড়িটিকে স্থানীয়রা চেনেন রহিমার মার বাড়ি হিসেবে। প্রশ্ন উঠতে পারে, নজর কাড়ার মতো বাড়িটির আলাদা বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তরটা সহজ। দেশজুড়ে এখন চলছে কারণে-অকারণে গাছ কাটার ধুম। এমন একটি সময়ে ‘রহিমার মার বাড়ি’র দুটি কক্ষে বেড়ে উঠেছে বিশাল দুটি নারকেল গাছ! গাছ কেটে নয়, বরং গাছ রেখেই গড়ে তোলা হয়েছে বাড়িটি।

এলাকায় রহিমার মা হিসেবে পরিচিত বৃদ্ধার নাম বুলবুলি বেগম। অবশ্য বাড়িটি এখন আর ষাটোর্ধ্ব এই নারীর মালিকানায় নেই। কিছুদিন আগে রঙমিস্ত্রি সাইদুল হক সেন্টু এবং স্বর্ণকার জীবন বাড়িটি কিনে নিয়েছেন।

তবে মালিকানা বদল হলেও গাছ কাটা পড়েনি। নতুন করে বাড়িটি যারা কিনেছেন, তারাও ঘরের মধ্যেই যত্ন করে রেখে দিয়েছেন গাছ দুটি।

কথা হয় সাইদুল হক সেন্টুর সঙ্গে। পেশায় রঙমিস্ত্রি সাইদুল আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমি যখন বাড়িটি কিনি তখন থেকেই এই গাছ বাড়ির মধ্যে ছিল। তবে গাছ কাটিনি।

বৃষ্টির সময় টিনের ছাউনির কাটা অংশ দিয়ে পানি পড়ে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, টিনের যে অংশ কাটা রয়েছে, সেখানে সিমেন্ট-বালির মিশ্রণ দিয়ে পানি পড়ার পথ বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের অসুবিধা হয় না। গাছটা আমার সামনের কক্ষেই আছে।

যার নামে বাড়ির পরিচিতি, সেই বুলবুলি বেগম এখন পাশেই অপর একটি বাড়িতে থাকেন। কথা হয় তাঁর সঙ্গেও।

চার সন্তানের জননী বুলবুলি বেগম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে প্রায় ৪০-৫০ বছর আগে। নারকেল গাছ দুটি ঘরের মধ্যেই রেখে দেওয়া হয়।

ঘরের মধ্যে গাছ, কারণ জানতে চাইলে বুলবুলির সরল উত্তর —নারকেল খাওয়ার জন্য!

স্থানীয় সচেতন কয়েকজন ব্যক্তি জানান, নগরায়নের নামে দেশজুড়ে চলছে গাছ কাটার ‘উৎসব’। অথচ আর্থিকভাবে বিত্তশালী কিংবা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া এই মানুষরা বাড়ির আর সবকিছুর মতো আপন করে নিয়েছেন দুটি নারকেল গাছকেও। বুলবুলি বেগম, সাইদুল, জীবনরা আজকের ইট-পাথরের শহরে সত্যিই বিরল।

আলোকিত চট্টগ্রাম

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm