সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহানোর চিত্র অহরহ। কিন্তু সেতু থাকার পরও দুর্ভোগ পোহানোর নজির খুঁজে পাওয়া মুশকিল। অবাক ঠেকলে সত্য, বছরের পর বছর এই সমস্যার মুখোমুখি ফটিকছড়ি উপজেলার ৬ গ্রামের মানুষ।
এখানে সেতু আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারণ সংযোগ সড়ক যে নেই! ফটিকছড়ির হারুয়ালছড়িতে সেতুটি দীর্ঘদিন অকেজো পড়ে থাকলেও তা নিয়ে যেন কারো কোনো দায়বদ্ধতা নেই। অথচ সেতুটি ব্যবহার করতে না পারায় ৬ গ্রামের ৫ হাজার মানুষের প্রতিদিন মুখোমুখি হতে হচ্ছে দুর্ভোগের।
হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম আঁধার মানিক পশ্চিম ত্রিপুরাপাড়ায় ফটিকছড়ি খালের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটি শুধু সময়ের সাক্ষী মাত্র। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় এর কাঠামোতেও জীর্ণতার ছাপ। সেতুটি গ্রামীণ যোগাযোগের ভরসা হওয়ার কথা থাকলেও সেটি এখন অপ্রয়োজনীয় এক স্থাপনা।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির এক পাশে উঁচু কংক্রিট কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও অন্য পাশে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে সেতুটি বাস্তবে কোনো কাজে আসছে না।
খালের দুই তীরজুড়ে রয়েছে গ্রামীণ জনপদ, চাষের জমি ও টিলাবেষ্টিত এলাকা। কোথাও কোথাও স্থানীয়রা এখনো অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো কিংবা সরু ঘাট ব্যবহার করে পারাপার হচ্ছেন।
সেতুটির সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল পশ্চিম আঁধার মানিক, উজানপাড়া, টিলাপাড়া, দবলী ছাড়াকুল, মাঝেরপাড়া ও নামারপাড়ার অন্তত পাঁচ হাজার মানুষের। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রতিনিয়ত তাদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। প্রতিদিন শিব মন্দির ও কালী মন্দিরে পূজা দিতে ভক্তদের এই খাল পার হতে হয়। কিন্তু সেতু থাকার পরও সেটি ব্যবহার করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথেই চলাচল করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ফটিকছড়ির মেসার্স তৈয়ব এন্টারপ্রাইজ।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেতুর কাজ শেষ হলেও পরবর্তী এক বছরের মধ্যেই বন্যার পানির তোড়ে সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এরপর থেকে আর ওই সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে নির্মাণের পরও ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থাতেই রয়ে গেছে সেতুটি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণের সময় পরিকল্পনায় বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। বিশেষ করে সংযোগ সড়কের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় না নেওয়ায় পুরো প্রকল্পটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিরেন্দ্র মাঝি ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, সেতু আছে, কিন্তু কোনো কাজে লাগে না। এটা আমাদের জন্য কষ্টের। বিশেষ করে বর্ষাকালে খাল পার হওয়া খুবই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
ষাটোর্ধ্ব এক ত্রিপুরা ব্যক্তি জানান, বয়স্কদের জন্য খাল পার হওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। সেতুটি ব্যবহার করা গেলে যাতায়াত সহজ হতো, পাশাপাশি পণ্য আনা-নেওয়াতেও ভোগান্তি অনেকটাই কমে যেত।
কৃষক আবুল হোসেন ও বিরেন্দ্র ত্রিপুরা জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় ফসল পরিবহনে তাদের বাড়তি সময়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
যোগাযোগ করা হলে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সমস্যাটি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, খালের আয়তনের তুলনায় সেতুটি আকারে কিছুটা ছোট। তবে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
আলোকিত চট্টগ্রাম


