সাতকানিয়ায় অস্ত্রের মুখে বাড়ির লোকদের জিম্মি করে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতরা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, মূল্যবান কাগজপত্রসহ ১৮ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নেয়।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কাছে জনার কেঁওচিয়া আধার মানিক দরগাহ সংলগ্ন ব্যবসায়ী হোছাইন মোহাম্মদ এহেসানের বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় ডাকাতদের মারধরে আহত হন ব্যবসায়ীর ভাগিনা এমরান বিন মুসা। পরে গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে ডাকাতরা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যায়।
ব্যবসায়ী হোছাইন মোহাম্মদ এহেসান বলেন, ব্যবসার কাজে আমি চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করি। মাঝে মাঝে বাড়ি যাই। বুধবার রাত তিনটার দিকে ৭-৮ জনের মুখোশধারী ডাকাত দল প্রথমে বাড়ির বাউন্ডারি ওয়াল টপকিয়ে জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে। পরে প্রধান ফটকের তালা কেটে মূল ঘরে থাকা আমার মা, বোন, ভাগ্নে ও ভাগ্নিদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারির চাবি কেড়ে নেয়। এ সময় আলমারিতে থাকা ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ এক লাখ ১৫ হাজার টাকা, পাঁচটি মোবাইল ফোন, কয়েকটি চেক বই ও মূল্যবান কাগজপত্রসহ ১৮ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে ডাকাত দল। বাধা দিতে গেলে আমার ভাগ্নেকে মারধর করে আহত করে ডাকাতরা।
তিনি বলেন, ঘরের কাছে ইছাপুকুর মসজিদের সামনে রাখা ছিল ডাকাতদের মাইক্রোবাস। সেখানেও ১০-১২ জন ডাকাত দাঁড়িয়ে ছিল। পরে ডাকাতির খবর পেয়ে এলাকার লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতরা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে মাইক্রোবাস নিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রোড দিয়ে উত্তর দিকে পালিয়ে যায়।
যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহির আমিন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ডাকাতির ঘটনার খবর পেয়ে ওসি স্যারসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চেষ্টা করি। ওই বাড়ির মালিক হলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। যিনি এখন পলাতক। বাড়ির লোকজন জানান, ডাকাতরা প্রথমে জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে ঢুকে। এরপর তালা ভেঙে মূল ঘরে ঢুকে স্বর্ণ, নগদ টাকা, মোবাইলসহ মুল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ডাকাতরা রাস্তায় তিনটি মোবাইল ফেলে দেয়, যেগুলো সকালে এলাকার লোকজন হাঁটার সময় দেখতে পান।
ডিএ/আলোকিত চট্টগ্রাম
