পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর মব, লাঞ্ছনা, হুমকি এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা প্রদানের ঘটনা গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত; বলছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)।
রোববার (৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে এমনটি জানায় বিএমএসএফ।
সংগঠনের নেতারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর সংগঠিতভাবে মব তৈরি করে হামলা, শারীরিক নির্যাতন, ক্যামেরা ও সরঞ্জাম ভাঙচুর এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ঘটনা শুধু সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে না, বরং জনগণের তথ্য জানার অধিকারকেও ক্ষুণ্ণ করছে।
বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর বলেন, বিদ্যমান দণ্ডবিধি ১৮৬০, দ্রুত বিচার আইন ২০০২ এবং অন্যান্য ফৌজদারি আইনে হামলা, ভাঙচুর ও বাধা প্রদানের বিধান থাকলেও সাংবাদিকদের ওপর সংঘবদ্ধ মব হামলার মতো বিশেষ অপরাধ প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট আইনগত বিধান এখনো পর্যাপ্ত নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আসে না এবং এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
এ অবস্থায় বিএমএসএফ মনে করে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর মব সৃষ্টি করে হামলা, লাঞ্ছনা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সরঞ্জাম নষ্ট করা কিংবা দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদানকে একটি বিশেষ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ডের বিধান রেখে একটি পৃথক আইন প্রণয়ন করা জরুরি।
বিএমএসএফ মনে করে, এমন একটি আইন প্রণয়ন হলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণমাধ্যম তার দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবে।
সাংবাদিকসমাজের দীর্ঘদিনের এই ন্যায্য দাবিটি বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের প্রতি বিএমএসএফের পক্ষে আহ্বান জানানো হয়।
বিএমএসএফ মনে করে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা মানে জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে সুরক্ষিত করা। সেই লক্ষ্যেই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
আলোকিত চট্টগ্রাম
